• সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
নৈতিকভাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আর দায়িত্বে থাকতে পারেন না: নাহিদ ইসলাম ওসমান হাদির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় রনি এক কলেজ থেকেই মেডিকেলে সুযোগ পেলেন ৪৫ শিক্ষার্থী হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে শহীদ মিনারে ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ’ শুরু হাদিকে হত্যাচেষ্টা: মামলায় ফয়সাল করিমসহ আসামি যারা পাঁচ দিনের রিমান্ডে আনিস আলমগীর ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা: প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবি রিমান্ডে হাদির আক্রমণকারী চিহ্নিত, বিএনপিকে জড়িয়ে মিথ্যাচার চলছে: মির্জা ফখরুল হাদির পক্ষে স্ট্যাটাস দেওয়ায় অভিনেত্রী চমককে হত্যার হুমকি সন্ত্রাসীদের পক্ষে থাকা আইনজীবীদের মুখোশ উন্মোচনের আহ্বান সাদিক কায়েমের

শিশুদের সঙ্গে আর কখনোই যেন এমনটি না ঘটে, জুলাই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইউনিসেফ

অনলাইন ডেস্ক / / / ৭১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

জুলাই-অগাস্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রতিবেদনে যে মর্মান্তিক ঘটনাগুলো উঠে এসেছে, সেখানে বাংলাদেশের শিশুদের সঙ্গে ‘আর কখনোই যেন এমনটি না ঘটে’ তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের সকল মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।” মর্মান্তিক ঘটনাগুলোকে ‘হৃদয়বিধারক ও উদ্বেগজনক’ হিসাবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রধান রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, “আসুন আমরা এই মুহূর্তটিকে অর্থপূর্ণ সংস্কারের জন্য কাজে লাগাই এবং নিশ্চিত করি যে বাংলাদেশের কোনো শিশু, পরিবার এবং কমিউনিটিকে আর যেন এ ধরনের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার থেকে সরকার পতন আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে তথ্যানুসন্ধান কমিটির এই প্রতিবেদন বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশন।

জুলাই ঘটনাবলির পূর্বাপর বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘ বলেছে, নিরস্ত্র মানুষের ওপর পরিচালিত ওই হত্যাযজ্ঞ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। বহু ঘটনা আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের আওতায় আসার উপযোগী বলেও মত দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে ১৫ অগাস্টের মধ্যে যে এক হাজার ৪০০ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে শতাধিক ছিল শিশু। নিহতদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে নিহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। নিহতদের মধ্যে ৬০ শতাংশের ক্ষেত্রে এমন গুলির ব্যবহার করা হয়েছে, যেটা যুদ্ধে ব্যবহার হওয়ার কথা।

নিহত শিশুদের অনেকের বিষয়ে ইউনিসেফের তরফে এর আগে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং মোট কত শিশু নিহত বা আহত হয়েছে, তা স্পষ্ট করার জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বিবৃতিতে বলেন ঢাকায় ইউনিসেফের প্রতিনিধি।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “নারীদের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার জন্য শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের হুমকি সহ নানা প্রকার জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার ঘটনার নথি পাওয়া গেছে। শিশুরাও এই সহিংসতা থেকে রেহাই পাইনি; তাদের অনেককে হত্যা করা হয়, পঙ্গু করে দেওয়া হয়, নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়, অমানবিক অবস্থায় আটক করে রাখা হয় এবং নির্যাতন করা হয়।”

কয়েকটি শিশুর হৃদয়বিদারক মৃত্যুর বর্ণনা প্রতিবেদন থেকে তুলে ধরে ইউনিসেফ বলেছে, “ধানমন্ডিতে দুইশ ছররা গুলি ছোড়ার কারণে ১২ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মারা যায়।

“আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে; সেখানে ছয় বছর বয়সী এক কন্যা শিশু তার বাড়ির ছাদে দাড়িয়ে সংঘর্ষ প্রত্যক্ষ করার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। এই বিক্ষোভের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন ৫ অগাস্ট পুলিশের গুলি চালানোর বর্ণনা দিয়ে আজমপুরের ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে বলেছে, ‘সব জায়গায় বৃষ্টির মত গুলি চলছিল’, সে অন্তত এক ডজন মৃতদেহ দেখতে পেয়েছিল সেদিন।”

বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রধান বলেন, “এই ঘটনাগুলো অবশ্যই আমাদের সকলকে আতঙ্কিত করে তুলছে। বাংলাদেশের শিশুদের সাথে ‘আর কখনোই যেন এমনটি না ঘটে’ তা নিশ্চিত করার জন্য ইউনিসেফ বাংলাদেশের সকল মানুষের কাছে আহ্বান জানায়।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category