বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের কাছে চাঁদা দাবি ও মানহানি করার অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা হয়েছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান ভূইয়া বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঠিক করে পূর্বক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর বিএনপিসহ অন্য দলের প্রার্থীরা এবং একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারনায় স্বাধীনভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ করে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে এবং সেই সঙ্গে নির্বাচন বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাবান প্রার্থীদের কাছ থেকে অন্য প্রকার অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টার অংশ হিসাবে আসামি ও তার সহযোগীরা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজে মিথ্যা জেনেও তা সত্য হিসাবে জনসাধারণের সম্মুখে সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত চরিত্র এবং আচরণবিধি সম্পর্কে মিথ্যা বিবৃতি প্রদান ও প্রকাশ করে আসছে।
এতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের অংশ হিসেবে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদী গত ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করাকালে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এবং অবাধে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীরা অজ্ঞাতনামা ভাড়াটিয়া খুনির মাধ্যমে ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন। ইতিমধ্যে যেই হত্যাকারীর ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
সেই মুহূর্তে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনে বিজয় হবার সম্ভাবনাবান প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনিত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে এবং তার কাছ থেকে অন্য প্রকার অবৈধ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে ব্যক্তিগত চরিত্র ও আচরণ সর্ম্পকে আজকের কণ্ঠ পত্রিকা এবং তার সহযোগীরা ১২ ডিসেম্বর বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামক অনলাইন পোর্টালে মির্জা আব্বাসের ক্যাডারদের গুলিতে বিদ্ধ ওসমান হাদি শীর্ষক বিবৃতি প্রদান ও প্রকাশ করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। শুধুমাত্র বিএনপি ঘোষিত ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী বিজয়ী হবার সমূহ সম্ভবনাবান প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত চরিত্র ও আচরণ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।