জিয়াউর রহমান অন্ধকার ঘোচাতে সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটাতে চেয়েছিলেন: কাদের গনি চৌধুরী
অনলাইন ডেস্ক /
/ ২২
Time View
Update :
বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
Share
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের রূপকার। তিনি সমাজের অন্ধকার ঘোচাতে সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটাতে চেয়েছিলেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ফোরাম আয়োজিত ‘শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি এরশাদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং মঈনুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন জাসাসের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ, অভিনেতা কবির আহমেদ, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, খন্দকার আতিক, রবিউল আহমেদ, নাট্য পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন দোদুল, নাট্য পরিচালক মুজিবুর রহমান মুজিব এবং সাংবাদিক এইচ এম আল আমিন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতি একটি সমাজের প্রাণ। এটি মানুষের জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলে। একটি জাতি কতটা সভ্য ও উন্নত—তার পরিমাপক হলো সংস্কৃতি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন, সমাজের অন্ধকার দূর করতে এবং অন্যায়-অপরাধ নির্মূল করতে সাংস্কৃতিক জাগরণ অপরিহার্য। এই জাগরণের মধ্য দিয়েই তিনি অনিয়ম, অন্যায় ও নৈরাজ্য চিরতরে রুখে দিতে চেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, এই সাংস্কৃতিক জাগরণের মাধ্যমে অনাবিষ্কৃত সভ্যতার নিদর্শনগুলো জাতীয় সম্পদ হিসেবে পরিচিতি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে, বিশেষ করে পর্যটন খাতে, অপার সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই তিনি সাংস্কৃতিক জাগরণের উদ্যোগ নেন।
এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিনি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর নতুন রাজনৈতিক দর্শন উপস্থাপন করেন। এই জাতীয়তাবাদে ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও সংস্কৃতিনির্বিশেষে সব নাগরিকের ঐক্য ও সংহতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, আমাদের সংস্কৃতি আমাদের দেশজ কৃষ্টির ধারক ও বাহক এবং এর রয়েছে এক অনন্য ঐতিহ্য।
১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতি, ধর্ম, ভাষা ও বর্ণের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা প্রবর্তন করেন। এর ভিত্তি ছিল—রাষ্ট্রের সীমানার ভেতরে বসবাসরত সব ধর্ম, ভাষা ও বর্ণের মানুষের সম্মিলিত পরিচয়ই জাতিরাষ্ট্র। ফলে কেউ ধর্ম, ভাষা বা বর্ণের কারণে বাদ পড়েনি; সবাই একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পেয়েছে।
রাষ্ট্রচিন্তক হিসেবে জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন, পৃথিবীর কোনো দেশই একক ধর্ম, ভাষা বা বর্ণের নয়। যেখানে এককেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ বিভেদ সৃষ্টি করে, সেখানে ভূখণ্ডভিত্তিক জাতীয়তাবাদ সবাইকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান উপস্থাপন করেছিলেন উদার মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দর্শন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ধর্মান্ধও নয়, আবার ধর্মহীনও নয়। সব ধর্ম, ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের স্বীকৃতি রয়েছে এতে। এর মাধ্যমে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয় এবং শুরু হয় উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি।
একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি জিয়াউর রহমানের গভীর অনুরাগ ছিল। ১৯৭৬ সালে ভাষা শহীদদের সম্মানে ‘একুশে পদক’, ১৯৭৭ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং ১৯৭৯ সালে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রবর্তন করেন। তাঁর আগ্রহেই ১৯৮১ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলা একাডেমির উন্নয়নে তাঁর আমলে ‘বাংলা একাডেমি অর্ডিন্যান্স ১৯৭৮’ জারি করা হয়। শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৮ সালে ‘জাতীয় শিশু পুরস্কার’ প্রবর্তন করেন। ১৯৭৯ সালে শাহবাগে জাতীয় শিশু পার্ক স্থাপন করা হয়।
তিনি টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা চালু করেন, যা ছিল বিশ্বের প্রথম ট্যালেন্ট হান্টধর্মী অনুষ্ঠান। এ প্রতিযোগিতা থেকে সামিনা চৌধুরী, তারানা হালিম, মেহের আফরোজ শাওন, ঈশিতা, তারিন, তিশাসহ অসংখ্য প্রতিভা উঠে আসে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাঙামাটিতে ও বিরিশিরিতে সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং চারটি বিভাগীয় শহরে ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান চেয়েছিলেন আগ্রাসনমুক্ত নিজস্ব সংস্কৃতির উত্থান। নতুন প্রতিভা অন্বেষণ ও সংস্কৃতি বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
তিনি বলেন, জিয়া নেই—তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন তারেক রহমান। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, আমরা আশা করি তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে।