ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরব সাগর থেকে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ভারত। ভারতীয় কোস্ট গার্ড জানায়, আন্তর্জাতিক তেল পাচারচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানের অংশ হিসেবে মুম্বাই উপকূল থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে এসব জাহাজ জব্দ করা হয়।
ভারতীয় কোস্ট গার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওই তিনটি জাহাজ শনাক্ত করা হয়। সংস্থাটির দাবি, সংঘাতপীড়িত অঞ্চল থেকে কম দামে তেল সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাঝসমুদ্রে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন মোটর ট্যাংকারে সরবরাহ করছিল এই চক্র। এতে উপকূলবর্তী দেশগুলোর প্রাপ্য শুল্ক এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি অভিযান, ইলেকট্রনিক তথ্য যাচাই এবং নাবিকদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ওই নেটওয়ার্কের কার্যপ্রণালী এবং একটি বৈশ্বিক পরিচালনাকারী চক্রের সঙ্গে তাদের সংযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য জাহাজগুলোকে মুম্বাই বন্দরের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নথিতে বলা হয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এড়াতে ব্যবহৃত একটি ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে এসব ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ‘সম্পর্কের বদল’
এ দিকে ওমানে পরোক্ষ আলোচনা শেষ হওয়ার পরপরই শনিবার ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। এতে তুরস্ক, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী অন্তত ১৪টি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এর আগে জানুয়ারিতে ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যে কোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
অন্য দিকে চলতি মাসের শুরুতে ঘোষিত ভারতের ২০২৬ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পে বছরে ১০০ কোটি রুপি করে বরাদ্দ দিয়ে আসছিল ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই চাবাহার প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করেছে নয়াদিল্লি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি