মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ছাপিয়ে এবার সরাসরি ইরানের হৃদপিণ্ডে আঘাত হেনেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, তারা তেহরানে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইআরজিসি বিমান বাহিনীর প্রধান সদর দপ্তর লক্ষ্য করে এক বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে। এই কমান্ড সেন্টারটি ছিল মূলত ইরানের আকাশসীমা নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, এই দপ্তরটি ধ্বংস করার মাধ্যমে ইরানের সম্পূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যত অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কারণ এখান থেকেই দেশটির সমস্ত ‘এরিয়াল পিকচার’ বা আকাশচিত্র নিয়ন্ত্রিত হতো।
অভিযানটি এতটাই ব্যাপক ছিল যে, শুধু সদর দপ্তরই নয় বরং আশপাশের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এই হামলার শিকার হয়েছে। তেহরানের ভেতরে থাকা একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির কারখানা এবং বড় আকারের একটি অস্ত্র গুদাম পুরোপুরি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইআরজিসির ব্যবহৃত ড্রোন ও যুদ্ধবিমানগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের দাবি, প্রায় ৮০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল এবং তারা সফলভাবে তাদের লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।
তেহরানের আকাশে যখন একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, তখন ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ইরান থেকে সম্ভাব্য বড় কোনো মিসাইল হামলা রুখতেই তারা এই আগাম বা ‘প্রি-এমপ্টিভ’ হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বিস্ফোরণের কথা স্বীকার করলেও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে। তবে আইআরজিসির মতো শক্তিশালী বাহিনীর প্রধান দপ্তরে এমন সরাসরি হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা