প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ৪:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৭, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
নরসিংদীতে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় নতুন মোড়

নরসিংদীতে শর্ষেখেত থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধারের ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। দাবি উঠেছিল, ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। তবে এখন পুলিশ বলছে, ওই কিশেোরীর সৎবাবাই তাকে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় এরইমধ্যে কিশোরীর সৎবাবা আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ শনিবার (৭ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক।
তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কিশোরীর বাবা বলেন, কিশোরীর নানা কর্মকাণ্ডে বিরক্ত ও সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয়প্রতিপন্ন হয়ে তিনি একা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। হত্যার দায় অন্যদের ওপর চাপাতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাসহ আট আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের সবার আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলেও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।
গতকাল শুক্রবার ৬ মার্চ ওই কিশোরীর সৎবাবা আশরাফ আলীকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। একপর্যায়ে তিনি পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতে পাঠানো হলে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
সৎবাবা আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই কিশোরীকে নিয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একজন সহকর্মীর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। নির্জন এক শর্ষেখেতের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ওই কিশোরীকে পেছন থেকে তারই ওড়না দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরেন তিনি। পরে ওই শর্ষেখেতে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর তার লাশ সেখানেই রেখে বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে তিনি অপহরণের নাটক সাজান।
পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক জানান, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যার অভিযোগে একজন, ধর্ষণের অভিযোগে চারজন এবং অবৈধ সালিশে জড়িত থাকার দায়ে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সৎবাবা আশরাফ আলী, নূর মোহাম্মদ নূরা ও হযরত আলী আদালতে জবানবন্দি দিয়ে দায় স্বীকার করেছেন।
সৎবাবা আশরাফ আলী (৪০) ছাড়াও এ মামলার গ্রেপ্তার ৮ আসামি হলেন নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), ইছহাক ওরফে ইছা (৪০) ও মো. আইয়ুব (৩০)। আবু তাহের নামের এক আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মহিষাশুড়া ইউপির সাবেক সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহসভাপতি।
এর আগে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেত থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি