মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নজিরবিহীন পদক্ষেপের ঘোষণা পাকিস্তানের
অনলাইন ডেস্ক /
/ ২৫
Time View
Update :
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
Share
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পাকিস্তানেও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় একাধিক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তবে এসব সিদ্ধান্ত সিন্ধু প্রদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জরুরি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সব সরকারি দপ্তরে সপ্তাহে চার দিন—সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার—কাজ চলবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করতে হবে।
তবে ব্যাংক খাত, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন, হাসপাতাল ও অ্যাম্বুল্যান্স সেবার মতো জরুরি পরিষেবাগুলো এই নিয়মের বাইরে থাকবে। এছাড়া পাকিস্তানের সব স্কুল ও কলেজ আগামী দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ শিক্ষা কমিশন অব পাকিস্তানের তত্ত্বাবধানে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
সরকার জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তাই বিদ্যমান জ্বালানি মজুত দক্ষভাবে ব্যবহারের জন্যই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, আগামী দুই মাস সরকারি যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমানো হবে এবং মোট সরকারি যানবাহনের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করা হবে না। তবে অ্যাম্বুল্যান্স ও গণপরিবহনের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে না।
এছাড়া ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে আগামী দুই মাস কোনো ফেডারেল মন্ত্রী, উপদেষ্টা বা বিশেষ সহকারী বেতন পাবেন না। সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ২০ শতাংশ কমানো হবে।
সরকারি কর্মকর্তা যারা গ্রেড–২০ বা তার ঊর্ধ্বে আছেন কিংবা মাসে ৩ লাখ রুপির বেশি বেতন পান, তাদের দুই দিনের বেতন কেটে নেওয়া হবে—যা জনগণের স্বস্তির জন্য ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া সব ফেডারেল ও প্রাদেশিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও গভর্নরদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। কেবল জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সফরের অনুমতি দেওয়া হবে।
অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যয় এড়াতে সব সরকারি সভা অনলাইনে আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ইফতার, সংবর্ধনা বা ভোজ আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠান, সম্মেলন ও সেমিনারও হোটেলের বদলে সরকারি স্থাপনাতেই আয়োজন করতে হবে।
ভাষণে শেহবাজ শরিফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারেরও বেশি বেড়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দাম আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের অর্থনীতি রক্ষায় সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।