প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২০, ২০২৬, ৪:৪৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১০, ২০২৬, ৮:৫০ পি.এম
হিজবুল্লাহকে দেখা যায় কম, কিন্তু কার্যকরভাবে আঘাত হানে বেশি

হিজবুল্লাহর হামলা, অ্যামবুশ ও নির্ভুল ড্রোন অপারেশন নিয়ে সাম্প্রতিক খবর বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—২০২৪ সালের ৬৬ দিনের যুদ্ধের পর কি হিজবুল্লাহ পরিবর্তিত হয়েছে? মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, এই সংগঠন শুধু পুনর্গঠিত হয়নি, বরং তাদের যুদ্ধ কৌশলও আরও উন্নত ও বুদ্ধিদীপ্ত হয়েছে।বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সফল হামলা, অ্যামবুশ ও নির্ভুল আঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান থেকে শুরু করে এফপিভি ড্রোন ও ক্ষুদ্র মানববিহীন বিমান ব্যবহারের মাধ্যমে তারা আগের তুলনায় ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ শুধু একটি যুদ্ধকারী গোষ্ঠী নয়; এটি একটি অভিযোজনশীল সংগঠন, যা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়, দুর্বলতা চিহ্নিত করে এবং সেই অনুযায়ী কাঠামো পরিবর্তন করে। ২০২৪ সালের যুদ্ধ এবং কিছু শীর্ষ কমান্ডারের হত্যাকাণ্ড তাদের জন্য বড় ধাক্কা হলেও একই সঙ্গে তা নেতৃত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামরিক কৌশল পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করেছে।
আগের যুদ্ধের একটি বড় দুর্বলতা ছিল কেন্দ্রীয় কমান্ড ও মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘাটতি। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে দেখা যাচ্ছে, একাধিক ফ্রন্টে সমন্বিতভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং প্রচণ্ড চাপেও কমান্ড কাঠামো ভেঙে পড়ছে না।
হিজবুল্লাহ এখন বড় বাহিনীর পরিবর্তে ছোট, দ্রুতগতিসম্পন্ন ও বিশেষায়িত ইউনিটের ওপর নির্ভর করছে, যা শনাক্ত করা ও লক্ষ্যবস্তু করা তুলনামূলক কঠিন। এই কাঠামোয় ড্রোন, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ইউনিট এবং এফপিভি ড্রোনের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা ‘বেশি সংখ্যা’ ভিত্তিক যুদ্ধনীতি থেকে সরে এসে ‘নির্ভুল আঘাত, কম ক্ষয়ক্ষতি এবং দীর্ঘস্থায়ী টিকে থাকার’ কৌশল গ্রহণ করেছে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হিজবুল্লাহর কাছে এখন ‘জয়ের সংজ্ঞা’ ও পরিবর্তিত হয়েছে। তারা আর শুধু ভূখণ্ড দখলকে সফলতার মানদণ্ড হিসেবে দেখছে না; বরং ইসরায়েলের অবস্থান দুর্বল করা এবং দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করাকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। সংক্ষেপে, দক্ষিণ লেবাননের এই যুদ্ধক্ষেত্র এখন একটি দীর্ঘস্থায়ী ‘অ্যাট্রিশন ওয়ার’-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য, অভিযোজন ক্ষমতা এবং কৌশলগত শিখনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সূত্র: পার্সটুডে
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি