প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২২, ২০২৬, ১:১৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২১, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
তিস্তার ঢলে মহিপুর সেতু রক্ষা বাঁধে ধস

উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ঐতিহ্যবাহী মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে গত বছর এলজিইডি কর্তৃক দেওয়া বাঁশের পাইলিং ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক। ইতিমধ্যেই সড়কটির অন্তত ১০টি পয়েন্টে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (২০ জুন) রাত থেকে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। আজ রোববার সকাল ১০টা নাগাদ বাঁধের ৫০ মিটারেরও বেশি অংশ ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে এবং সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ চরম যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার শঙ্কায় পড়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার বসতভিটা হারানোর হুমকিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরও এই বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সে সময় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে অস্থায়ীভাবে বাঁশের পাইলিং দিয়ে সেতুটি রক্ষার চেষ্টা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে স্থায়ী কোনো টেকসই পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার পানির স্রোত সেই বাঁশের পাইলিং ভেদ করে বাঁধটি ধসিয়ে দিয়েছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত বছর ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে এলজিইডিকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কর্মকর্তারা শোনেননি। তারা ১৪ লাখ টাকা খরচ করে সামনে বাঁশের পাইলিং করেছিল। এবার সেই পাইলিংও শেষ, আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখনই জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে।
তিস্তা সেতু এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া বলেন, বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উজান থেকে নেমে আসা পানি আরও বাড়লে আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।
কৃষক খোরশেদ আলী বলেন, এই বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আমাদের আবাদি জমিও নদীতে চলে যাবে। এলজিইডি শুধু আমাদের আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে।
ভাঙনের তীব্রতার কথা স্বীকার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ শতাংশ ধসে গেছে। তিনি আরও বলেন, গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে এই ধরনের পাইলিং করার পরামর্শ দিয়েছিল। আবারও ভাঙন ধরায় আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি