প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১১:৩৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২৬, ৭:৫৮ পি.এম
‘অপেক্ষার সময় শেষের পথে’, আঞ্চলিক মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বললো ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের জন্য আঞ্চলিক মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলেছে ইরান। লেবাননের দৈনিক নিদা আল-ওয়াতান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান বিশেষ করে হিজবুল্লাহসহ ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর সদস্যদের সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে ইরান-সমর্থিত জোটের নেতাদের জানানো হয়, ‘অপেক্ষার সময় শেষের পথে’ এবং এখন সামরিক প্রস্তুতিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এদিকে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রাথমিক সমঝোতার মাত্র এক মাস পরই আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত নতুন দফার সংঘাতে ইসরায়েল সরাসরি জড়ায়নি এবং তেহরানও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি। তবে হিজবুল্লাহ যদি আবারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিদা আল-ওয়াতানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানি কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে সম্ভাব্য যেকোনো উত্তেজনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যতের কোনো সংঘাত আগের যেকোনো লড়াইয়ের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ হতে পারে।
প্রতিবেদনটি দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও তেহরান এখনো হিজবুল্লাহকেই তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে যুক্ত হয়। এরপর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় এবং দক্ষিণ লেবাননে একটি বাফার জোনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে ২০২৪ সালের সংঘাতে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশকেও হত্যা করেছিল ইসরায়েল।
অন্যদিকে ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরাও এর আগে একাধিকবার ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর দেশটির হামলার পরিধি বাড়িয়ে সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এর মাধ্যমে তেহরানকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর চাপ কমাতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে।
এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং আরও বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, আগের রাতের হামলায় ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দরে অবস্থিত একটি নজরদারি টাওয়ার ধ্বংস করা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দীর্ঘদিন ধরে ওই টাওয়ার ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করত।
তাদের ভাষ্য, টাওয়ারটি ধ্বংসের ফলে আইআরজিসির বেসামরিক জাহাজে হামলা সমন্বয়ের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং আঞ্চলিক জলসীমায় নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সেন্টকম হামলার ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি