নড়াইল জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল রিকুইজিটস (এমএসআর) সামগ্রী কেনাকাটায় পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দরপত্রে বিধিবহির্ভূত ও অস্বাভাবিক শর্ত জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর-২০০৮) উপেক্ষা করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় ও সম্ভাব্য দরদাতাদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের লক্ষ্যে মোট ৬টি প্যাকেজে গত ২২ জুলাই দরপত্র আহ্বান করা হয়। আহ্বানকৃত প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে-ওষুধ বাবদ সর্বোচ্চ প্রায় ২ কোটি টাকা, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতিতে ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা, গজ-ব্যান্ডেজ ও তুলা খাতে ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, লিনেন সামগ্রীতে ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কেমিক্যাল রিএজেন্ট ও এক্স-রে ফিল্মে ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ফার্নিচার ক্রয়ে ২৭ লাখ টাকা।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৬ আগস্ট দরপত্র জমার শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিযোগীদের সুযোগ সীমিত করতে এবং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে টেন্ডার নোটিশে আর্থিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার অবাস্তব শর্ত জুড়ে দিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবদুল গফফার।
দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র জমার আগে ১৫ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিকভাবে ৩ কোটি টাকার ‘চলমান ব্যালেন্স’ দেখাতে বলা হয়েছে। অথচ দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করা হয় ২০ জুলাই এবং তা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২২ জুলাই। অর্থাৎ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগের তারিখ (১৫ জুলাই) থেকে ব্যাকডেটে ব্যাংক ব্যালেন্সের শর্ত দেওয়ায় সাধারণ ঠিকাদারদের জন্য এটি পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে কেবল বিশেষ কোনো পূর্বসংকেত পাওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই এ শর্ত পূরণ সম্ভব।
এ ছাড়া পিপিআরের নিয়ম অনুযায়ী ৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা ও প্রাক্কলিত মূল্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ সমমানের কাজের অভিজ্ঞতার বিধান থাকলেও, এ দরপত্রে চাওয়া হয়েছে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি বিগত ৪ বছরের মধ্যে তিনটি নির্দিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা এবং প্রাক্কলিত মূল্যের আড়াই গুণ সমপরিমাণ কাজের শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা আইন বহির্ভূত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংক ব্যালেন্সসংক্রান্ত এই শর্তের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজের ভুল স্বীকার করেন নড়াইল জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবদুল গফফার।
তিনি বলেন, “ঠিকাদাররা যদি বিষয়টি আগে জানাতেন, তবে তা সংশোধন করা যেত। কিন্তু এখন সময় কম থাকায় তা শোধরানো সম্ভব হচ্ছে না।”
তবে বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, দরদাতাদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের শর্ত আরোপে আইনি কোনো বাধা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি