কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের নামে চাঁদা আদায়সহ প্রতি স্বাক্ষরে ভিন্ন দরে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
*স্কুল পরিদর্শনের নারী শিক্ষকদের নিয়ে আসর বসানোর অভিযোগ*
প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানের নামে জেলা ব্যাপী শিক্ষা অফিস থেকে টাকা আদায়, দাপ্তরিক কার্যক্রমে ফাইলে স্বাক্ষরের সময় কাজ ভেদে ভিন্ন ভিন্ন রেটে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম দুর্নীতে সিন্ডিকেট গঠন বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে সুন্দরী নারী শিক্ষিকাদের নিয়ে আসর বসানো, কর্মকর্তা কর্মচারিদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ নানান অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী চৌধুরী কুমিল্লায় যোগদানের পর জেলা শিক্ষা অফিসসহ শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। তার অধিনস্থ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মামুন, কর্মকর্তা কর্মচারি জাকির, সানোয়ার, শহিদুল্লাহ, সাত্তারসহ বেশ কয়েকজনকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গঠন করেন এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি নানান অপকর্ম দেধাচ্ছে চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা কর্মচারিরা জানান আমাদের স্যার এলপিআর ফাইল স্বাক্ষর দুই হাজার টাকা,পেনশন ফাইল তিন হাজার, জিপিএফ লোন এক হাজার টাকায় ফাইল স্বাক্ষর করেন।
প্রতিটি ফাইল ভিন্ন ভিন্ন রেটে ঘুষ নিয়ে স্বাক্ষর করেন।তাছাড়াও চৌদ্দগ্রামের এক স্কুল শিক্ষিকা ইতালিতে থেকেও চাকুরীর সরকারি অর্থগ্রহণসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নামে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ, নাঙ্গলকোটে আরেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার তদন্তের রিপোর্ট তার পক্ষে দেওয়ার নামে দুই লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানকে ঘিরে জেলার প্রত্যেক উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে থেকে চার হাজার টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন স্কুলের সুন্দরী নারী শিক্ষিকাদের টার্গেট করেই নির্ধারিত সময়ের পরে স্কুলে মিটিং এর নামে আসর বসানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ে মিটিং এর নামকরণ করে আমোদ প্রমোদ, বিনোদন ও জলসার ডাক দিয়ে থাকেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা। এমন আপত্তিকর মন্তব্যই করলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষিকা। অর্থনৈতিক দুর্নীতি আর নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় নয় শুধু, গণমাধ্যম কর্মিরা কেন তার অপকর্ম সম্পর্কে জানলেন তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। পুরো বিষয় গুলো নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি বিভিন্ন স্কুলে আমার মিটিং বা সরকারি কাজ থাকতে পারে সেই সুবাধে হয়তো অনেক জায়গায় অনুষ্ঠান শেষ করতে যথেষ্ট সময় লেগেছে।
আমার বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকলে আমার উপর মহল জানবে কিন্তু গণমাধ্যমকে কারা জানালো তাদের নাম জানতে চাই-? গণমাধ্যম কর্মিদের এমন প্রশ্নই জুড়ে দিলেন তিনি।বিভিন্ন বিষয় তার নিকট জানতে চাইলে তিনি বার বার বিষয়টি এড়াতে তার অফিস কর্মকর্তাদের রুমে আসতে বললে কেউই তার কক্ষে আসেননি এবং তার বিরুদ্ধে আনিত সকল দায় অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ পরিচালক মো: নুরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি ।
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি