ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের বাঁশ বাজার ও আশপাশের এলাকায় সরকারি আইন কানুন ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফসলি জমি, সরকারি খাস জমি এবং পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক ড্রেন অবৈধভাবে ভরাট করার এক মহোৎসব চলছে।
স্থানীয় ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের বিতর্কিত আল আমিন মেম্বার ও তার শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাত ধরে এই অবৈধ বালু ভরাট ও ড্রেজার বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। এর ফলে এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষি জমি ও পরিবেশ এখন ধ্বংসের মুখে।জাতীয় দৈনিক ‘যুগের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘দেশ পত্র’-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সংক্রান্ত অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।
মাঠ প্রশাসনের যোগসাজশ ও রাজনৈতিক প্রভাব:স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটটি রাজনৈতিক প্রভাব ও এক প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে দিনের পর দিন এই তাণ্ডব চালাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মোঃ হেলালের পরোক্ষ আশ্রয়, প্রশ্রয় ও যোগসাজশেই রাতের আঁধারে ড্রেজার ও "বোমা মেশিন" দিয়ে এই ফসলি জমি ভরাটের কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তার অনৈতিক ভূমিকার কারণে সিন্ডিকেটটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
২০ দিন ধরে লিখিত অভিযোগ, তবুও নির্বিকার ডিসি অফিস:ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে গত ২০ দিন যাবত লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত ডিসি অফিস বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) কিংবা দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।পরিবর্তনের হাওয়া বনাম বর্তমান বাস্তবতা:সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার ক্ষমতায় এলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং কৃষকদের অবস্থা বিগত সরকারের আমলের চেয়েও আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রবীণ কৃষকেরা আক্ষেপ করে বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক মিস শারমিন জাহানের আমলে ফসলি জমি ধ্বংসের বিরুদ্ধে বা অবৈধ ড্রেজার-বেকু কৃষি জমিতে নামার সাথে সাথে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর সাজা ও জরিমানা করা হতো।
অথচ বর্তমান প্রশাসনের আমলে বারবার সাংবাদিক ও এলাকাবাসী জেলা প্রশাসককে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষ মনে করছে যে, প্রশাসনের বড় কর্তারাও হয়তো এই সিন্ডিকেটের সাথে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত।পরিবেশ ও কৃষির অপূরণীয় ক্ষতি:ট্রলারে করে বাঁশ বাজার এলাকায় বালু এনে ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ড্রেন ও সরকারি খাস জমি ভরাট করে ফেলার কারণে আগামী বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতা, হুমকিতে পড়ছে কয়েক হাজার কৃষকের জীবিকা।
অবিলম্বে এই অবৈধ বালু ভরাট বন্ধ, ড্রেজার সিন্ডিকেটের হোতা আল আমিন মেম্বার ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার এবং অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা মো. হেলালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগীয় কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নবীনগরের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী কৃষক সমাজ।
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি