কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকায় গত ১০ বছর ধরে চলছে অবৈধ ড্রেজারের তাণ্ডব। আইন অনুযায়ী ডোবা, পুকুর বা কৃষিজমির শ্রেণী পরিবর্তন না করে ভরাট করা নিষিদ্ধ হলেও, এখানে অবাধে চলছে ফসলি জমি ভরাটের মহোৎসব। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যের পেছনে কাজ করছে প্রশাসনের ভেতরের একটি শক্তিশালী অসাধু চক্র, যার মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডের গাড়ি চালক (ড্রাইভার)।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুলালপুর বাজার সংলগ্ন হাইস্কুলের পূর্বদিকের ফসলি জমি থেকে মাটি খনন করে বেজুরা ৩ হাজার ফুট পাইপলাইন টেনে কৃষি ও ডোবা পুকুর ভরাট করছে, কৃষি জমি ধ্বংসকারী প্রধান ড্রেজার মালিক মোঃ আমিন মৈশান পিতা: কুদ্দুছ মৈশান ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার এসি ল্যান্ডের অসাধু গাড়ি চালকের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত মাসোহারা ও মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
যার কারণে বারবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়ার পরও উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনক কারণে কোনো মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে না।
সর্বশেষ গত ৩ দিন আগে ব্রাহ্মণপাড়ার বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম-এর সরকারি মোবাইল নাম্বারের হোয়াটসঅ্যাপে ড্রেজার মালিক আমিন মৈশানের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাঠানো হলেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আরও জানা গেছে, এর আগে ব্রাহ্মণপাড়ায় কর্মরত থাকা এবং এই ড্রেজারের ঘুষ বাণিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত একজন সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদলি হয়ে অন্য কর্মস্থলে চলে গেলেও, এখনো তার পরোক্ষ ইশারা ও নিয়ন্ত্রণে এই অবৈধ ড্রেজার সিন্ডিকেট বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছে।
এই সিন্ডিকেটের কারণে দুলালপুর হাইস্কুল ভবনটি এখন ধসে পড়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়াও শিদলাই এলাকাতে শাকিল আহাম্মেদ বাকির আরও একটি ড্রেজার চলছে সুনির্দিষ্ট স্থানটি হলো ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ২ নং সিদলাই ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের পশ্চিমপাড়া, রশিদ মেম্বারের বাড়ির উত্তর পাশে কৃষি জমিতে।
কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তন ছাড়াই শত শত একর তিন-ফসলি জমি ও পুকুর ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণপাড়ার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী কৃষকেরা ড্রেজার মালিক আমিন মৈশান, প্রশাসনের দালাল গাড়ি চালক এবং এর সাথে জড়িত সাবেক ও বর্তমান অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাননীয় ভূমি মন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি