কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মধুমুড়া গ্রামে সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক অসহায় মহিলার কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিওতে এই তথ্য জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের কথা বলে প্রথমে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়। পরে কার্ড হয়ে গেলে আরও ২ হাজার টাকা করে দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। এই কায়দায় মধুমুড়া গ্রামের অন্তত ৮-১০ জন মহিলার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ছাত্রদল নেতা স্থানীয় এক মহিলার মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরি করে এই প্রতারণা চালাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে অটো চালক সবুজ মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম ভিডিও বক্তব্যে বলেন, মহিউদ্দিন ফ্যামিলি কার্ড কইরা দিবো বইলা আমার কাছ থাইকা ৩০০ টাকা নিছে। কইছে কার্ড পাইলে আরও ২ হাজার টাকা দিতে হইবো।
সুমি বেগমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী টাকা দেওয়া অন্য ভুক্তভোগীরা হলেন -জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী, শফিক মিয়ার স্ত্রী, গিয়াস মিয়ার স্ত্রী, রফিক মিয়ার স্ত্রী, মোকলেছ মিয়ার স্ত্রী ও নুরু মিয়ার স্ত্রী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মহিউদ্দিন টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা পারুল আক্তারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সুপারভাইজার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। নিবন্ধন বা কার্ড বাবদ কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ টাকা নিয়ে থাকলে সেটা প্রতারণা এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
আরেক'সুপারভাইজার আলআমীন আমানত কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন' ফ্যামিলি কার্ড মাঠ পর্যায়ে বিনামূল্যে করা হয়। তবে মহিউদ্দিন এর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন তাদের ব্যক্তিগত লেনদেন বিষয়ে তাদের।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টাকা নেওয়ার কোনো বিধান নেই। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা জানান' সরকারের ভাল কার্যক্রম বিতর্ক করতে একটি চক্র প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তারা করছে। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি