কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় কুরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও কথিত পীরের নানা অনাচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে দক্ষিণ বলরামপুর প্রাইমারী স্কুলসংলগ্ন পুকুরপাড়ে এলাকার সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও ওলামায়ে কেরামের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তাদের বক্তব্য ও অভিযোগ:
বলরামপুর গ্রামের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও ওলামায়ে কেরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আব্দুর রব ভূইয়া। তিতাস উপজেলা উলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মুফতি নূরুল ইসলাম নদভী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। কাপাশকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে আরও জোরালো বক্তব্য রাখেন মাওলানা মীর তফাজ্জল হোসেন, মাওলানা ইউসূফ জামিল, মাওলানা তৌফিক খন্দকার এবং ইসলামী যুব আন্দোলন তিতাস উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন পাপ্পু, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন পশ্চিম অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর ও শামীম ভূইয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
বক্তারা স্থানীয় মুকবুল হোসেনকে ‘কথিত পীর’ ও ‘ভণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
মুকবুল হোসেন পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বিধানের বাইরে গিয়ে নানা ধরনের শিরকি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
ওরশের নামে অপসংস্কৃতি: ওরশের নামে এলাকায় ভণ্ডামি ও অনৈসলামিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। নামাজ ও হাদিসের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কথাবার্তা বলা হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন যে, মুকবুল হোসেনের দরবারে নারীরা এসে তাকে সিজদা করছেন, যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও গুরুতর অপরাধ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইসলামবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড তিতাসের মাটিতে বরদাশত করা হবে না। অবিলম্বে এসব বিতর্কিত কার্যক্রম বন্ধ করে তাকে সঠিক দ্বীনের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান তারা।
অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ জনতার আনীত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুকবুল হোসেন। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, "আমি নামাজ, রোজা, কুরআন ও হাদিসের বিরুদ্ধে নই। আমি নিয়মিত নামাজ আদায় করি; তবে অসুস্থতার কারণে মসজিদে যাওয়া হয় না। সিজদা কেবল মহান আল্লাহ পাকের জন্যই নির্ধারিত, কেউ আমাকে সিজদা করবে কেন? আমি কোনো ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নই। আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন।"
এলাকায় ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি