দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন। নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে প্রার্থীরা নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, কমনরুমের উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে কণ্ঠস্বর তুলে ধরার মতো নানা চটকদার ইশতেহার দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এমনকি জয়ের পর অনেক নারী প্রতিনিধিকে ক্যাম্পাসে নিয়মিত দেখা যায় না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে জকসুর নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
সুখিমন (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক): নিভৃতে সাইবার সেলের ইশতেহার, ফোনে মেলেনি সাড়া।
অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী সাইবার সেল গঠন, সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরএমএস) চালুর মাধ্যমে নিজস্ব সার্ভারে শিক্ষার্থীদের ফলাফল দেখার সুবিধার কথা বলেছিলেন সুখিমন। পাশাপাশি পুরো ক্যাম্পাসে শক্তিশালী ওয়াই-ফাই ও শ্রেণিকক্ষে আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা নিশ্চিত করা ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তবে এসব প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কাছ থেকে কোনো কল বা খুদে বার্তার উত্তর পাওয়া যায়নি।
নওশিন জয়া (আন্তর্জাতিক সম্পাদক): প্রতিশ্রুতি পূরণ 'গ্লোবাল অ্যালামনাই নেটওয়ার্কে', তবে ফান্ড সংকট বাধা।
জকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক নওশিন জয়া তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি তাঁর উদ্যোগে জবি আইটি সোসাইটি ও সিএসই ক্লাবের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম ‘JnU Global Alumni Network (JnUGAN)’-এর ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবিক সংকট ও গণহত্যা নিয়ে সচেতনতা তৈরির কাজও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে।
তবে সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে নওশিন জয়া বলেন, "শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রচার ছাড়াই অনেক কাজ করেছি। কিন্তু ফান্ড ম্যানেজ না হওয়ার কারণে অনেকগুলো পরিকল্পনা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে পারিনি।"
ফাতেমা অউরিন (কার্যনির্বাহী সদস্য): পেছালো কমনরুম ও ক্যাফে পরিকল্পনা, এগোচ্ছে আত্মরক্ষা ও সাহিত্য উদ্যোগ।
নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, কমনরুম সংস্কার, নোটিশ হাব এবং খেলাধুলার প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন ফাতেমা অউরিন।
যা বাস্তবায়িত ও চলমান: বিজ্ঞান অনুষদের নারী কমনরুম সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে এবং সেন্ট্রাল কমনরুমের কাজ চলছে। কমনরুমে ম্যাগাজিন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তায় ২ মাসব্যাপী আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া নভেম্বরের শেষভাগে একটি ম্যাগাজিন উন্মোচন, শহীদদের স্মরণে 'শহীদদের প্রতি চিঠি লিখন' এবং 'নূরুস সীরাহ' ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি ধূপখোলা মাঠে নারীদের আউটডোর গেমস শুরুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রশাসনিক বাধার মুখে যেসব উদ্যোগ:
পৃথক ক্যাফেটেরিয়া ও কমনরুমের বাইরে আউটডোর ক্লাস্টার সেটিংয়ের জন্য বাজেট ও উপাচার্যের প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও পরবর্তীতে ট্রেজারারের আপত্তিতে তা বাতিল হয়। ব্রেস্টফিডিং কর্নারের আবেদনেও ধীরগতির অভিযোগ করেন তিনি, তবে চলতি মাসের মধ্যেই এটি চালুর আশা ব্যক্ত করেন।
শান্তা আক্তার (কার্যনির্বাহী সদস্য): শৌচাগার ও স্বাস্থ্যসেবা সংকটে মেলেনি কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ।
ক্যাফেটেরিয়ার পাশে নির্মাণাধীন শৌচাগারের নকশাগত সমস্যা, একমাত্র ছাত্রী হলে প্রাথমিক চিকিৎসার অভাব এবং অফিশিয়াল সময়ের বাইরে নারী শিক্ষার্থীদের শৌচাগার ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা দূর করার আশ্বাস দিয়েছিলেন শান্তা আক্তার। তবে নির্বাচনী মাঠের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কত দূর এগোল তা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সংশয় রয়েছে। উদ্যোগের হালনাগাদ জানতে তাঁর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা ক্যাম্পাসে নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীরা জকসুর নারী প্রতিনিধিদের ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তাঁদের দৃশ্যমান উপস্থিতি না থাকা এবং অধিকাংশ প্রতিশ্রুতির স্থবিরতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছে।
চেয়ারম্যান: জুয়েল খন্দকার
অফিসঃ ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ই-মেইলঃ songbadtv1@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ টিভি