যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনের আশা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম টানা কমেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে আন্তর্জাতিক বাজারের দুই প্রধান বেঞ্চমার্ক তেলের দাম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় (GMT) সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৮৬ শতাংশ বা ২.৫৩ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল ৮৫.৮৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৪০ শতাংশ বা ১.৯৮ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল ৮০.৬৩ ডলারে দাঁড়ায়। উভয় বেঞ্চমার্কের দামই ১৭ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং বিরোধ নিরসনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক হামলা চালাতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক না হলেও ওমানের মধ্যস্থতায় নতুন আলোচনার কারণে বাজারে পরিস্থিতির উন্নতির আশা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সকে উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য স্বেচ্ছা ফি-ভিত্তিক যৌথ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনার একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে দিয়েছে ওমান।
বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর একটি।
তবে আইএনজির বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচলে এখনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তেলের দাম কমার প্রবণতা স্থায়ী হতে হলে ওই পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব হরমুজের বাইরে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও পড়েছে। গত সপ্তাহে এ রুট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়ে গেলেও সোমবার সেখানে জাহাজ চলাচল চার দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে হরমুজে চলাচল এখনো সীমিত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লোহিত সাগর অঞ্চলে সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকি এখনো কাটেনি। সৌদি আরব জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাক থেকে এসব ড্রোন ছুড়েছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের দিকে তেল বহনকারী ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে তারা হামলা চালিয়েছে। এটি সৌদি ড্রোন হামলার প্রতিশোধ বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮০ ডলারে নেমে আসতে পারে। তবে লোহিত সাগরের অস্থিরতা এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় নতুন হামলা হলে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রলের মজুত কমেছে। তবে ডিজেলসহ অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির মজুত কিছুটা বেড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স