• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ইরানের সক্ষমতা দেখে কোনো শত্রু হামলার সাহস পাবে না: পেজেশকিয়ান বিশ্ববাজারে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছাল তেল হুথি হামলায় সম্পৃক্ততার সৌদি অভিযোগ অস্বীকার ইরানের দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফসলি জমি ও হালট ভরাটের মহোৎসব: নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশও মানছে না প্রশাসন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি / ৩৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ও জিনদপুর ইউনিয়নে সরকারি খাস জমি, হালট (পানি চলাচলের রাস্তা) এবং ফসলি কৃষি জমি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভরাট করার মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মোঃ হেলাল এবং বিএনপি নেতা আল-আমিনের যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ইব্রাহিমপুর ৯নং ওয়ার্ডের ওমান প্রবাসী বাবুল মিয়ার বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের কৃষি জমিতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এবং মেঘনা নদীর বালু ট্রলারে করে এনে আল-আমিন গং ইব্রাহিমপুর ও কাঁঠালিয়া এলাকার আশপাশের তিন ফসলি কৃষি জমি, খাস জমি, পানি চলাচলের ড্রেন এবং ছোট-বড় ডোবা-পুকুর নির্বিচারে ভরাট করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হেলালের প্রত্যক্ষ আশ্রয় ও রহস্যজনক নীরবতার সুযোগ নিয়ে এই সিন্ডিকেটটি দিনরাত অবলীলায় ভরাট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। ইব্রাহিম পুর এতিনখানা সংলগ্ন ফসলি জমি ও ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, বিষয়টি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নজরে আসলে কমিশনের চেয়ারম্যান মহোদয় এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও নদী রক্ষা কমিশনের আহ্বায়ককে লিখিত চিঠি দিয়ে নির্দেশ দেন। কিন্তু নদী রক্ষা কমিশনের সেই চিঠি দেওয়ার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মাঠ পর্যায়ে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। আল-আমিন গং প্রশাসনের নাকের ডগায় বুক ফুলিয়ে ফসলি জমি ভরাট অব্যাহত রেখেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে একাধিকবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-কে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কোনো মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনার খবর পাওয়া যায়নি।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনা এবং সাংবাদিকদের দফায় দফায় অবহিকরণের পরও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের এমন রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা ও নীরবতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও চরম ক্ষোভের দানা বাঁধছে। দ্রুত এই অবৈধ ড্রেজিং ও ভরাট বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category