• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ইরানের সক্ষমতা দেখে কোনো শত্রু হামলার সাহস পাবে না: পেজেশকিয়ান বিশ্ববাজারে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছাল তেল হুথি হামলায় সম্পৃক্ততার সৌদি অভিযোগ অস্বীকার ইরানের দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর সাজেকে ফিরছেন পর্যটকেরা, স্বাভাবিক যান চলাচল

অনলাইন ডেস্ক / ২৬ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অবরোধ স্থগিতের পর রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে আবারও পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল থেকে পর্যটকেরা সাজেক যেতে শুরু করেছেন।

পর্যটকদের আগমনে সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজগুলোতেও ব্যস্ততা ফিরতে শুরু করেছে। সাজেকের একটি রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জানান, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে আগের অনেক বুকিং বাতিল হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে তাঁদের রিসোর্টে প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। পূজার ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।

বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাট স্টেশনের লাইনম্যান মো. জসিম জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্র ও পিকআপসহ অন্তত ১০০টি যানবাহন সাজেকে পৌঁছেছে। এসব যানবাহনে আনুমানিক ৮০০ পর্যটক সেখানে প্রবেশ করেছেন।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য সুপর্ণ দেববর্মণ বলেন, আগের বুকিংগুলোর অনেকটাই বাতিল হয়েছিল। বর্তমানে গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম সেতু ও মাচলঙের ১৪ কিলোসহ কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে সাজেকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েন।

অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস—সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। একই দাবিতে গত ১১ অক্টোবর অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সেদিন বিকেলে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। এরপর বুধবার যৌথ বিবৃতিতে দ্বিতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেন দুই সংগঠনের নেতারা।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সাজেক এলাকায় জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির এক নেতা জানান, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ইউপিডিএফের চাপে সংগঠন দুটি অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অবরোধের কারণে গত রোববার পর্যটকবাহী যানবাহন সাজেকে আটকা পড়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পর্যটকেরা নিরাপদে সাজেকে প্রবেশ করতে শুরু করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category