• সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন ও বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দেবিদ্বারে এনসিপির কমিটি নিয়ে বিতর্ক: আন্দোলনের বিপক্ষে থাকা ছাত্রলীগ নেতা শুভ সিনিয়র যুগ্ম সচিব কুমিল্লায় রাসায়নিক দিয়ে কলা পাকানোর দায়ে জরিমানা গাজায় খাদ্যসংকটে ভুগছে ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি: ডাব্লিওএফপি সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: রায়ের কপি পেলে ব্রিফ করবে সরকার ইউপি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নয়, পরিস্থিতি জটিল হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন: ইসি মাছউদ জাপানে চাকরির সুযোগ বাংলাদেশিদের, চুক্তি সই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ দমনে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ প্রবাসীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির আবেদন যেভাবে করবেন এসএসসিতে দুই বোর্ডের বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ দমনে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’

অনলাইন ডেস্ক / ১৯ Time View
Update : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে পাল্টা সমাবেশ করেছে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’। বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর বিরোধিতা করে রবিবার রাজধানীর মালবীয় স্মৃতি ভবনে প্রথম সদস্য সমাবেশের আয়োজন করে দলটি। সমাবেশ থেকে বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি সমর্থন জানান বক্তারা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমাবেশে দলটির প্রধান অয়ন ভাটনাগর দাবি করেন, অল্প সময়ের নোটিশেও বিপুলসংখ্যক মানুষকে একত্র করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদি কোনো সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, তাহলে আরও বেশি মানুষ জড়ো হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দিল্লির কনট প্লেসসহ বিভিন্ন এলাকায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরব হন লাল হিট জনতা পার্টির নেতারা।

অয়ন ভাটনাগর অভিযোগ করেন, এসব বিক্ষোভ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি করছে। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি ‘তেলাপোকা’সহ বিভিন্ন অবমাননাকর শব্দও ব্যবহার করেন।

দশেরা থেকে দীপাবলি পর্যন্ত সময়কে ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কনট প্লেসের মতো বাণিজ্যিক এলাকায় বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা দিল্লিসহ কয়েকটি বড় শহরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।

আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের সরকার পরিবর্তনসংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অয়ন ভাটনাগর প্রশ্ন তোলেন, বিক্ষোভের মাধ্যমে কীভাবে সরকার পরিবর্তন সম্ভব।

তিনি বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তোলা হলে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও উঠতে পারে। তবে তাঁর মতে, নির্দিষ্ট কোনো দাবির পক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হলেই সেই দাবি মেনে নেওয়া যায় না।

২০২৩ সালে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতির প্রসঙ্গ তুলে ভাটনাগর দাবি করেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের নেতাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর মতে, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করার আগে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও পূর্ববর্তী কমিশনারদের কার্যকাল পর্যালোচনা করা উচিত।

লাল হিট জনতা পার্টির প্রধান দাবি করেন, গণতন্ত্র রক্ষার লক্ষ্য নিয়েই তাঁদের দল গঠিত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের উদ্দেশ্য পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল করা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীটি কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সমর্থন পাচ্ছে। এসব গোষ্ঠী বিজেপি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নিজেদের সরকার গঠন করতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সমাবেশে সাংবাদিক পবন চলমান আন্দোলনের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন। তাঁর আশঙ্কা, ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে এই হিসাবের উৎস বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

এদিকে, সমাবেশে উপস্থিত কত্থক নৃত্যশিল্পী রিচা গুপ্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং দেশকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ভাটনাগর বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অসম্মান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। দশেরার দিন থেকেই ককরোচ জনতা পার্টির পতন শুরু হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সমাবেশের বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে এসে সরাসরি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথাও বলেন তাঁরা।

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভের বিপরীতে এই পাল্টা সমাবেশ ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ এবং সমাবেশে উত্থাপিত রাজনৈতিক দাবিগুলো যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও স্বাধীন তথ্য প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category