‘যুদ্ধবিরতিতে হামাসের সাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন জানালা খুলেছে’
অনলাইন ডেস্ক /
/ ৬৫
Time View
Update :
শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫
Share
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, হামাসের পক্ষ থেকে গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তির জন্য একটি ‘নতুন সুযোগের জানালা’ উন্মুক্ত হয়েছে।
শনিবার (৪ অক্টোবর) ইস্তাম্বুলে এক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘হামাস আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা শান্তির জন্য প্রস্তুত। তবে এর জন্য ইসরায়েলের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। উদিত হওয়া এই শান্তির আশাকে ফিকে হয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এরদোয়ান বলেন, ‘যদি সব পক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করে, তাহলে এই রক্তপাত থামানো এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
এরদোয়ান আরও জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক ফোনালাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল গাজা। তিনি বলেন, ‘আমরা হামাসের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানাই।’
তুরস্ক গাজায় গণহত্যা বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট জানান, ‘মানবিক সহায়তা থেকে শুরু করে কূটনৈতিক তৎপরতা পর্যন্ত—সবক্ষেত্রে আমরা সক্রিয় রয়েছি।”
জাতিসংঘে গাজার শিশুদের দুর্দশা তুলে ধরার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেছি।’
এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হলো—গাজার ভাইবোনেরা যেন শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরে পায়, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর একটি নিষ্পাপ প্রাণও যেন হারিয়ে না যায়, আর গাজার শিশুরা যেন হাসতে পারে—এ জন্য যা যা প্রয়োজন, তুরস্ক তা করতে থাকবে।’
এরদোয়ান জানান, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার যাত্রীদের আমরা তুরস্কে স্বাগত জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে এবং ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে এগিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ১ অক্টোবর সন্ধ্যায় গাজার উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছায়।
এরপর ইসরায়েলি বাহিনী বহরটিতে হামলা চালায় এবং অবৈধভাবে বহু জাহাজ ও নৌকা জব্দ করে। শতাধিক যাত্রীকেও আটক করে তারা। এটি গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠাতে এ পর্যন্ত সংগঠিত সবচেয়ে বড় বহর।