ফ্লোরিডার ফেডারেল বিচারক এইলেন ক্যানন রায় দিয়েছেন যে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গোপন নথি সংক্রান্ত মামলার বিশেষ প্রসিকিউটরের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারবে না।
বিচারক সোমবার প্রকাশিত ওই রায়ে বলেন, প্রতিবেদনটি প্রকাশ করলে ‘ন্যায়বিচারের গুরুতর ব্যাঘাত’ ঘটতে পারে, কারণ এতে এমন অভিযোগের বিস্তারিত রয়েছে যা এখনো বিচারে প্রমাণিত হয়নি।
বিচারক ক্যানন রায়ে বলেন, অভিযোগ আনার পরও কোনো চূড়ান্ত রায় না থাকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক ধারণার পরিপন্থী হবে। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এতে গ্র্যান্ড জুরির গোপন তথ্য ফাঁস হতে পারে এবং তার আগের আদেশ লঙ্ঘিত হতে পারে, যেখানে বিশেষ প্রসিকিউটর জেক স্মিথ-এর নিয়োগকে অবৈধ বলা হয়েছিল।
মামলাটি গোপন নথি অবৈধভাবে রাখার অভিযোগে আনা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শেষে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত নথি, এমনকি পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত তথ্যও, ব্যক্তিগত ক্লাব মার-এ-লাগোতে রেখেছিলেন এবং সেগুলো ফেরত আনতে সরকারের প্রচেষ্টায় বাধা দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে বিচারক ক্যানন মামলার সব অভিযোগ খারিজ করে দেন, কারণ তার মতে বিশেষ প্রসিকিউটরের নিয়োগ বৈধ ছিল না।
রায়ের পর ট্রাম্পের আইনজীবীরা সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যেসব তথ্য “বিষাক্ত বৃক্ষের ফল” হিসেবে এসেছে, সেগুলো প্রকাশ করা উচিত নয়। অন্যদিকে নাগরিক সংগঠন আমেরিকান ওভারসাইট (American Oversight মত দিয়েছে) যে এই নিষেধাজ্ঞা জনসাধারণের তথ্য জানার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে।
ট্রাম্প এবং তার দুই সহ-অভিযুক্ত—সহকারী ওয়াল্ট নাউটা ও মার-এ-লাগো ব্যবস্থাপক কার্লোস দে ওলিভেরা—সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাইডেন প্রশাসনের সময় বিচার বিভাগ মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পরে তা বন্ধ করে দেয়।
এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান চারটি ফৌজদারি মামলার একটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে আসার সম্ভাবনা কমে গেল। বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত এখনো চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে, তবে আপাতত প্রতিবেদনটি গোপনই থাকবে।
সূত্র: রয়টার্স