অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের আর্থিক সহায়তা ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম
অনলাইন ডেস্ক /
/ ২৬
Time View
Update :
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
Share
গত ১২ বছরে বাংলাদেশকে প্রায় ১ হাজার ৫৫৭ কোটি রুপি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ভারত। তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই সহায়তা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
মাত্র পাঁচ বছর আগেও ভারত বছরে ২০০ কোটির বেশি রুপি সহায়তা দিত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫ কোটি রুপিতে, যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
গত শুক্রবার ভারতের লোকসভায় এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং এই তথ্য জানান। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশ কত সহায়তা পেয়েছে—এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন লোকসভার সদস্য টি আর বালু। লিখিত উত্তরে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও (লাইন অব ক্রেডিট বা এলওসি ছাড়া) বাংলাদেশকে দেওয়া সহায়তার চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নীতি ‘প্রতিবেশী-কেন্দ্রিক ও জনমুখী’।
ভারত এলওসি ও অনুদানের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতেও সহযোগিতা দিয়েছে।
সহায়তার পরিমাণ
লোকসভায় দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ১৯৮ কোটি রুপি দেওয়া হয়েছিল। সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হয় ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ২১৯ দশমিক ৫৩ কোটি রুপি।
এরপর থেকে সহায়তা কমতে থাকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৫৯ কোটি রুপিতে। ওই সময় গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় দ্বিপক্ষীয় সহায়তা কমে যায়।
বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১ মাসে) মাত্র ২৫ কোটি রুপি দেওয়া হয়েছে। ফলে পাঁচ বছরে ভারতের সহায়তা আগের তুলনায় এক-অষ্টমাংশে নেমে এসেছে।
কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও সামাজিক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ভারত সবসময় একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে এবং দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর আওতায় উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য ভারতীয় বন্দর ব্যবহারে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনা করা হবে।
লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) পরিস্থিতি
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এলওসির আওতায় ভারত প্রায় ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ ছাড় করেছে।
২০১০, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত তিনটি এলওসি চুক্তির আওতায় ভারত বাংলাদেশকে মোট ৭.৩৬ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থ ছাড় হয়নি।
এই প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগই অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও সংযোগ খাতে। ২০১০ সালের প্রথম এলওসির ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে ১২টি সম্পন্ন হয়েছে, তিনটি চলমান। দ্বিতীয় এলওসির ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে দুটি সম্পন্ন, ১০টি চলমান এবং তিনটি প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে। তৃতীয় এলওসির ১৩টির মধ্যে আটটি চলমান, বাকি পাঁচটি এখনও প্রস্তাব পর্যায়ে।
ইআরডির এক কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় ঋণ ছাড়ের গতি কমে যায়। তবে নতুন সরকার এলওসি প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের বাধাগুলো চিহ্নিত করতে পর্যালোচনা শুরু করেছে।