• রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
বাগেরহাট জেলা ফোরাম, চট্টগ্রামের ঈদ পুনর্মিলনী ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সম্মেলন ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন: সেবায় এগিয়ে আসার আহবান রংপুরে রামবা’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ভূজপুর দাঁতমারায় শালিসি বৈঠকে চু’রি’র অ’ভিযো’গে যুবককে পি’টিয়ে হ’ত্যা হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদাবাজি: কোতয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪, মোটরসাইকেল উদ্ধার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে বোর্ডসভার পর আরও এক বিসিবি পরিচালকের পদত্যাগ কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ২০ দিনক্ষণ চূড়ান্তের পরও জাতিসংঘে হরমুজ নিয়ে ভোট হচ্ছে না শনিবারও

রোববার থেকে দেওয়া হবে হামের টিকা

অনলাইন ডেস্ক / / ২৯ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

বসন্তকালে যে রোগগুলোর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তার মধ্যে হাম অন্যতম। বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর রোগটি বেশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কেন হয় রোগটি? কীভাবে ছড়ায়? জানতে চান অনেকে। চলুন জেনে নিই বিস্তারিত-

দেশে হাম নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু আতঙ্ক কখনোই ভালো ফল বয়ে আনে না; বরং সঠিক তথ্য জানা ও সচেতন হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

হাম কী?

হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি দ্রুত অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত করতে পারে। এমনকি ভাইরাসটি বাতাস বা কোনো বস্তুর ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। সাধারণত ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০–১৪ দিন পর লক্ষণ দেখা দেয়।

লক্ষণ ও ঝুঁকি

হামের প্রাথমিক লক্ষণকে 3C দিয়ে মনে রাখা যায়।  যার ব্যাখ্যায় দাড়ায়- কফ, কোরাইজা বা সর্দি, কনজাংকটিভাইটিস বা চোখ লাল হওয়া। এর সঙ্গে তীব্র জ্বর, মুখের ভেতরে কপ্লিক স্পট এবং কয়েকদিন পর শরীরে র্যাশ দেখা দেয়, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

৫ বছরের কম বয়সি শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এর বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অপুষ্ট শিশুর ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হতে পারে। হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কারা পাবে হামের টিকা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামী রোববার থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে একটা ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন আমরা শুরু করতে যাচ্ছি।

এর আগে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদেরই কেবল হামের টিকা দেওয়া হত। তবে দেশের আপদকালীন সময়ে টিকাদানের ক্ষেত্রে বয়সসীমায় পরির্তন এসেছে।

বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত শিশু-কিশোররা এখন টিকা নিতে পারবে।  যেসব এলাকায় বেশি সংক্রমণ ঘটেছে, সেসব এলাকায় আগে টিকাদান শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। এমআর (মিসেলস-রুবেলা) বা এমএমআর (মিসেলস-মাম্পস-রুবেলা) টিকা নিরাপদ এবং অত্যন্ত কার্যকর। সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ দেওয়া হয়, যা শিশুকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়।

আক্রান্ত শিশুর যত্নে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

হামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হাম প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও অপরিহার্য। একটি সমাজে প্রায় ৯৫% মানুষ টিকা নিলে রোগটির বিস্তার বন্ধ করা সম্ভব। তাই নিজের শিশুর পাশাপাশি আশপাশের সব শিশুর টিকাও নিশ্চিত করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category