হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংক বার্কলেজ। সংস্থাটি ২০২৬ সালের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্যপ্রক্ষেপণ বাড়িয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।
বার্কলেজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্ন যত দীর্ঘ হবে, তেলের দামের ধাক্কা তত বেশি গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক তেলবাজারে দৈনিক প্রায় ৬৬ লাখ ব্যারেলের ঘাটতি চলছে, যা সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকলে আরও বাড়তে পারে।
ব্যাংকটি সতর্ক করে বলেছে, মে মাসের শেষ পর্যন্ত এই সংকট চলতে থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাবের খবরে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমে আসে। তবে সপ্তাহজুড়ে দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল, কারণ তেহরান এখনো হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি তেল রপ্তানিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের জুলাই ফিউচার্স ২ দশমিক ০২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ দশমিক ১৭ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৯৪ ডলারে লেনদেন শেষ করে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি আরোপ করে। এর ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
যদিও ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বৃহস্পতিবার ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ‘দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক’ পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেন।
এর মধ্যেই মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ‘সার্ভ শক্তি’ নামের একটি ট্যাংকার ৪৬ হাজার ৩১৩ মেট্রিক টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে ভারতগামী পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।