ব্রিটিশ ‘বিপ্লবী চিত্রশিল্পী’ ডেভিড হকনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
তিনি ১৯৬০-এর দশকের ‘সুইং সিক্সটিজ’ যুগে পপ আর্ট আন্দোলনের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের নান্দনিকতার প্রতীক হয়ে ওঠা সুইমিং পুল চিত্রগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। অ্যা বিগার স্প্যাশ এবং পোট্রেট অব এ্যান আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)–এর মতো কাজগুলোতে তিনি সূর্যালোকিত আকাশের নিচে প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও বিচ্ছেদের আবেগময় দৃশ্য তুলে ধরেছেন।
তবে হকনির ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে কেবল একটি যুগ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। তিনি ফটো-কোলাজ ব্যবহার করে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়া প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন, বিমূর্ত ল্যান্ডস্কেপ চিত্রকলায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে উদীয়মান ত্রিডি প্রযুক্তি দিয়ে শিল্প সৃষ্টির সম্ভাবনা অনুসন্ধান করেছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হকনির মৃত্যুতে শোকবার্তা দিয়েছেন। তার এক মুখপাত্র বলেন, ‘ব্রিটেনের অন্যতম খ্যাতিমান শিল্পী ডেভিড হকনির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে দুঃখিত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার উজ্জ্বল ও সহজেই চেনা যায় এমন কাজ বহু প্রজন্মের শিল্পীদের প্রভাবিত করেছে, এবং প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা তার বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।’
তারা আরও বলেছেন, তার রেখে যাওয়া কাজ ‘চমকপ্রদ, জীবন্ত এবং চিরন্তন’।
হকনির প্রতিনিধিদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিখ্যাত ব্রিটিশ শিল্পী ডেভিড হকনি তার ৮৯তম জন্মদিনের এক মাস আগে ১১ জুন ২০২৬ মারা যান। তিনি ২০ ও ২১ শতকের সমকালীন শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।’
১৯৩৭ সালে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ব্র্যাডফোর্ডে জন্মগ্রহণ করা হকনি ছিলেন পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। তিনি নিজের পরিবারকে ‘র্যাডিকাল শ্রমজীবী পরিবার’ বলে বর্ণনা করতেন। তার বাবা-মা ছোটবেলা থেকেই তার শিল্পীসত্তাকে উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি ব্র্যাডফোর্ড কলেজে শিল্পশিক্ষা নেন এবং ১৯৫৭ সালে ইয়র্কশায়ার আর্টিস্টস এক্সিবিশনে বাবার একটি প্রতিকৃতি বিক্রি করে প্রথমবারের মতো ১০ পাউন্ড আয় করেন।
তিনি হাসপাতালে অর্ডারলি হিসেবে দুই বছর কাজ করেন। এরপর ১৯৫৯ সালে লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব আর্টে ভর্তি হন। সেখানে তিনি দ্রুতই প্রতিভাবান কিন্তু বিদ্রোহী স্বভাবের একজন শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান। নারী মডেলের জীবন্ত অঙ্কন না করার কারণে তার স্নাতক হওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল—তিনি পরিবর্তে একটি পুরুষ শরীরের ছবি জমা দেন, যা তিনি একটি ফিটনেস ম্যাগাজিন থেকে নিয়েছিলেন। তিনি চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য প্রবন্ধ লিখতেও অস্বীকৃতি জানান, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন তাকে কেবল তার শিল্পকর্ম দিয়েই মূল্যায়ন করা উচিত। শেষ পর্যন্ত কলেজ তার প্রতিভার কারণে নিয়ম শিথিল করে তাকে ডিপ্লোমা দেয়।
তিনি একাধিকবার নাইটহুড প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একবার রানি’র প্রতিকৃতি আঁকার আমন্ত্রণও ফিরিয়ে দেন বলে জানা যায়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান