আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেখা যায়, বিভিন্ন শহর এলাকার বাজার ও বিপনি বিতানগুলোতে ছদ্মবেশে একটি চোর চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ জনগণের মোবাইল, টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি ও ছিনতাই করে ভিড়ের মাঝে মিশে যায়। এই চক্রটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কিছুদিন ধরে বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে এবং লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) নির্ধারণ করে অপরাধ সংঘটন করে।
পূজায় কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে এবং এই চক্রটিকে শনাক্ত করতে জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ দিক-নির্দেশনায় ও সার্বিক তত্বাবধানে জেলা পুলিশের সকল ইউনিট একটি বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে ফেলেছে এবং বেড়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। এরি ধারাবাহিকতায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় এমন একটি চোর চক্র অবস্থান করছে।
উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাই ও অপরাধী দমনে জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ টিম উক্ত স্থানে একটি সফল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় ৫ জন নারী সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন সময় লুণ্ঠিত ১৩টি মোবাইল ফোন এবং চোরাই মালামাল বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা :
১। সরলা আক্তার (৪২), পিতা-জমত আলী, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
২। এলেনা বেগম ওরফে হেলেনা (৪৫), পিতা-নূর মিয়া, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
৩। বেদনা খাতুন (২৯), পিতা-জলফু ভান্ডারী, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
৪। খাদিজা আক্তার (২০), পিতা-নূর মিয়া, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
৫। ফাহিমা আক্তার (১৯), পিতা-আরব আলী, জেলা-হবিগঞ্জ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত নারীরা পেশাদার অপরাধী এবং ইতিপূর্বেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।
আসন্ন উৎসবকালীন সময়ে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী যেকোনো চক্রের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এই কঠোর ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।