• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ইরানের সক্ষমতা দেখে কোনো শত্রু হামলার সাহস পাবে না: পেজেশকিয়ান বিশ্ববাজারে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছাল তেল হুথি হামলায় সম্পৃক্ততার সৌদি অভিযোগ অস্বীকার ইরানের দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৮ Time View
Update : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শহিদ ড. শামসুজ্জোহা মুসলিম ছাত্রাবাসে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া সত্ত্বেও অ-শিক্ষার্থীদের অবৈধভাবে কক্ষ দখল করে থাকা এবং সিট বাণিজ্যের মাধ্যমে নগদ টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে। এতে করে একদিকে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আবাসন সংকট, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বর্তমান মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে কলেজ জুড়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মূল ছাত্রাবাসের ৪০৮ নম্বর কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের ১০ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম মনির। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শেষ হলেও ছাত্রত্বহীন অবস্থায় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে তিনি হলে অবস্থান করছেন।

সম্প্রতি হোস্টেলে অবস্থানরত বৈধ শিক্ষার্থীদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে আশ্চর্যজনকভাবে দুটি কক্ষের শিক্ষার্থীদের নাম ও তালিকা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে—কক্ষ দুটি হলো ৪০৮ এবং ২০৩। ২০৩ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হাসান।

সিট দখলের পাশাপাশি সরাসরি সিট বাণিজ্য ও অবৈধভাবে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধির কাছে আসা মেসেঞ্জার চ্যাটিংয়ের কিছু স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ৪০৮ নম্বর কক্ষে থাকা ছাত্রদল নেতা মনিরুল ইসলাম মনির লিখেছেন— যারা সিটের টাকা জমা দিবেন ৪০৮ নম্বর রুমে চলে আসুন। ১০:৩০ পর্যন্ত টাকা তোলা হবে।

একজন অ-শিক্ষার্থী নেতার এভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিটের টাকা নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং হলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, হলের প্রায় ১৫টি সিট এমন ব্যক্তিদের দখলে রয়েছে, যাদের বর্তমানে কলেজে কোনো ছাত্রত্ব নেই। অনার্স চতুর্থ বর্ষ বা মাস্টার্স শেষ করার পরও দীর্ঘদিন ধরে তারা হোস্টেল ছাড়ছেন না।

এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর হোস্টেল সুপারের কার্যালয় থেকে বকেয়া পরিশোধ করে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে সিট ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও অ-শিক্ষার্থীরা তা তোয়াক্কা করেননি। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা সিট বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ছাত্রদল নেতা মনিরুল ইসলাম মনির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার মাস্টার্স শেষ হয়নি, একটি বিষয়ে ফেল রয়েছে। আমি ছাত্র রাজনীতি করি।

এছাড়াও সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে মাস্টার্স ফেল করে বা শেষ করে রাজনীতি করছে না—এমন দেখাতে পারবেন? আমরা ১৬-১৭ বছর জেল-জুলুম খেটে রাজনীতি করেছি, এতটুকু সুযোগ-সুবিধা কি পাব না!

ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও সিট দখল ও টাকা তোলার বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক এস এম জুয়েল রানা বলেন, মনিরুল ইসলাম মনির আমাদের কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। উনি ছাড়াও আরও ১৫-১৬ জন এভাবে ছিল, ধীরে ধীরে ৪-৫ জন গেছে, এখন আরও কয়েকজন আছে। আমরা কলেজ প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। কলেজ ছাত্রদলের কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রত্বহীনদের বিরুদ্ধে কলেজ প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

হোস্টেল সুপারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমবার কথা বলে সাংবাদিক ও পত্রিকার নাম শুনেই তিনি সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মহীদুল হাসান বলেন, কোনো ছাত্র ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার পর বা ফল প্রকাশের পর আর নিয়মিত ছাত্র থাকে না। ফেল করলেও অনিয়মিত হিসেবে পরীক্ষা দিতে পারে, তবে তার কলেজ হোস্টেলে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও ছাত্রদল নেতার হলে থাকার বিষয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে অধ্যক্ষ বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজের দর্পণ। আপনারাই পরামর্শ দেন কী করা যায়? সরকারের নির্ধারিত নিয়ম তো সব ক্ষেত্রে একবারে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। আমি তো ছাত্রদের মারতে পারি না বা জোর করে বের করে দিতে পারি না। চলে যেতে বলতে পারি, কিন্তু তারা যদি নিজে থেকে না যায় বা লজ্জাবোধ না করে, তবে কী করার আছে বলুুুন!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category