কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলাজুড়ে আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে অবাধে চলছে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা।
উপজেলার দুলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের পুকুর ও তিন ফসলি জমি ভরাটের পাশাপাশি এবার ছাতিয়ানী বাজারের পাশেও আরেকটি শক্তিশালী অবৈধ ড্রেজার চালু থাকার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো উপজেলায় ড্রেজার সিন্ডিকেটের সাথে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) ও কর্মচারীদের নিয়মিত মাসোহারা (ঘুস) এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ড্রেজার মালিকরা স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মচারীদের নিয়মিত অনৈতিক সুবিধা দিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের গাড়ি চালকের মুঠোফোনে উপজেলার সব ড্রেজার মালিকের যোগাযোগ নম্বর রয়েছে। প্রশাসন যখনই ড্রেজার বিরোধী মোবাইল কোর্ট বা অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেয়, ঠিক তার পূর্বমুহূর্তে ওই গাড়ি চালক ড্রেজার মালিকদের কাছে অভিযানের আগাম তথ্য পৌঁছে দেয়। ফলে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ড্রেজার চালকরা সটকে পড়ে। লোকদেখানো অভিযানে কেবল দুই-তিনটি পাইপ ভেঙে প্রশাসন চলে আসার পরপরই পুনরায় পুরোদমে ড্রেজার কার্যক্রম শুরু হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বালুমহাল আইন অনুযায়ী, ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি কাটা এবং জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ দুলালপুর ও ছাতিয়ানী বাজারসহ পুরো উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে দিন-রাত ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলনের ফলে সংলগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, রাস্তাঘাট এবং আশেপাশের ফসলি জমি ধসে পড়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই শক্তিশালী ড্রেজার সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং ফসলি জমি রক্ষায় তারা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিসে বারবার অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের ভেতরের একশ্রেণীর অসাধু কর্মচারীর তথ্য ফাঁসের কারণে কোনো স্থায়ী সুফল মিলছে না। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় এবং প্রশাসনের ভেতরের তথ্য পাচারকারীদের চিহ্নিত করতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিশেষ ও আকস্মিক টাস্কফোর্স অভিযানের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ।