• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
লালপুরে বিএনপিতে ফিরতে চান ৪০০ নেতাকর্মী, নীতিনির্ধারকদের অনুমতি চাইলেন ৭ নেতা সড়কের উন্নয়ন কাজ তদারকিতে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী দুর্নীতি প্রতিরোধে লটারি পদ্ধতি হতে পারে কার্যকর উদ্যোগ রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসালেই মামলা: ডিএসসিসি প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর সামনে রেখে ঢাকা-নারিতা রুটে বিমানের ফ্লাইট দ্বিগুণ ভানুয়াতুর উপকূলে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি তাসমানিয়ায় ফুটবল কোচের বিরুদ্ধে তিনটি ধর্ষণের অভিযোগ, ক্লাব সভাপতির পদত্যাগ মাঝ আকাশে দুই বিমানের ভয়াবহ সংঘর্ষ, অতঃপর… কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত রয়েছে: রিজভী ইমাম ও আলেমদের জন্য রক্ত দিতেও দ্বিধা করব না: ধর্মমন্ত্রী

পাকিস্তানের ১০৪ কোম্পানির প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার ঘাটতি

অনলাইন ডেস্ক / ২১ Time View
Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

পাকিস্তানের শীর্ষ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার, পরিবেশগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতা, সুশাসন (ইএসজি) এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশে দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তানের ২০২৬ সালের এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে এ চিত্র।

সংস্থাটির ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন করপোরেট রিপোর্টিং অ্যাসেসমেন্ট (ট্র্যাক) ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ১০৪টি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে কোম্পানিগুলোর গড় স্কোর দাঁড়িয়েছে ৬৬.৭৩ শতাংশ বা ১০-এর মধ্যে ৬.৬৭। আগের মূল্যায়নে ৬৯টি কোম্পানির গড় স্কোর ছিল ৭২.৩ শতাংশ।

নতুন মূল্যায়নে কোনো কোম্পানিই সামগ্রিক করপোরেট স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে পূর্ণ নম্বর অর্জন করতে পারেনি।

মূল্যায়নে সবচেয়ে ভালো করেছে অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (ওজিডিসি), ফৌজি সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড এবং সাজগার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানগুলোর স্কোর যথাক্রমে ৯২.৭১, ৯১.৬৭ ও ৯১.০৪ শতাংশ।

তবে সামগ্রিক ফলাফলের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রের দুর্বলতা পাকিস্তানের করপোরেট তথ্য প্রকাশব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতিবেদনে মানবাধিকার এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বিষয়ে তথ্য প্রকাশকে সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিভাগে কোম্পানিগুলোর গড় স্কোর মাত্র ৪৫.৯৮ শতাংশ।

ইএসজি-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে গড় স্কোর ৪৭.৮৪ শতাংশ। অন্যদিকে, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশে গড় স্কোর ৫৩.৪১ শতাংশ।

মানবাধিকার ও সিএসআর বিভাগে শুধু ফৌজি সিমেন্ট পূর্ণ স্বচ্ছতা অর্জন করেছে। এ ছাড়া ১১টি কোম্পানিকে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে স্বচ্ছ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

মূল্যায়নে মানবাধিকারসংক্রান্ত যথাযথ যাচাই, শিশুশ্রম প্রতিরোধ, কর্মীদের নিরাপত্তা, মজুরি পরিশোধের ব্যবস্থা এবং অভিযোগ জানানোর পদ্ধতির মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে কোম্পানিগুলোর নীতিমালা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, নীতিমালা সম্পর্কে সচেতনতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছে সংস্থাটি।

এ বিভাগে ওজিডিসি, ফাতিমা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড এবং লাকি কোর ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সর্বোচ্চ স্কোর পেয়েছে।

অন্যদিকে, সাংগঠনিক কাঠামো ও দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক তথ্য প্রকাশে কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো। এ দুই বিভাগে গড় স্কোর যথাক্রমে ৯২.৪৯ ও ৯২.৫০ শতাংশ।

লিঙ্গসমতা, বৈষম্যহীনতা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি বিভাগে গড় স্কোর হয়েছে ৬৮.১১ শতাংশ। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং বৈষম্যের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশে ঘাটতি রয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। আগের ও বর্তমান—দুই সংস্করণেই মূল্যায়ন করা ৬৩টি কোম্পানির গড় স্কোর ৭২.০১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৮.৪৫ শতাংশ হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, এ অগ্রগতি প্রায় ৮.৯ শতাংশ।

দুই মূল্যায়নে অপরিবর্তিত থাকা সূচকগুলোতে কোম্পানিগুলোর উন্নত পারফরম্যান্সের কারণে এ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান।

কোম্পানিগুলোর ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন, আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য প্রকাশ্য নথির ভিত্তিতে মূল্যায়নটি করা হয়েছে। এতে আটটি ক্ষেত্র পর্যালোচনা করা হয়। এগুলো হলো দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, দেশভিত্তিক প্রতিবেদন, অভ্যন্তরীণ আর্থিক তথ্য, সরকারি চুক্তির ক্রয়প্রক্রিয়া, মানবাধিকার, লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং ইএসজি।

তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এ মূল্যায়নে কোম্পানিগুলো কতটা তথ্য প্রকাশ করেছে, সেটিই পরিমাপ করা হয়েছে; প্রকাশিত নীতিমালা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নয়।

অর্থাৎ, কম স্কোরকে সরাসরি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। একইভাবে, বেশি স্কোরও কোনো কোম্পানির নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ করপোরেট তথ্য প্রকাশ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে, জনবিশ্বাস শক্তিশালী করতে এবং সুশাসনসংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দুর্নীতি ও রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা পাকিস্তানে উন্নত করপোরেট প্রতিবেদনব্যবস্থা কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি বাড়াতে এবং আরও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, মূল্যায়নটি দেখাচ্ছে যে পাকিস্তানের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো সাংগঠনিক ও আর্থিক তথ্য প্রকাশে তুলনামূলক ভালো করলেও মানবাধিকার, সামাজিক দায়বদ্ধতা, ইএসজি এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশে এখনও উল্লেখযোগ্য উন্নতির সুযোগ রয়েছে। সূত্র- জিওনিউজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category