অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এর মধ্যেই বড় ধরনের সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইসরায়েল, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি নেতানিয়াহু।
শুক্রবার গভীর রাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া ঠেকাতে হবে। তাঁর ভাষায়, এই নির্বাচনে আমাদের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া রুখে দিতে হবে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। তবে নিজের কৌশল সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, আকস্মিক পদক্ষেপ ও চমকপ্রদ কৌশল গ্রহণ করতে তিনি পছন্দ করেন।
তিনি বলেন, আমি এমন সব পদক্ষেপের মাধ্যমে এই হুমকি নিষ্ক্রিয় করার কাজ করব, যা আপাতত গোপন রাখাই ভালো বলে মনে করি; যাতে চমক দেওয়ার বিষয়টি বজায় থাকে। আর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য আরও একটি বড় চমক অপেক্ষা করছে।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতায় নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নেতানিয়াহু জানান, এ বিষয়ে ইসরায়েল তার অবস্থান পরিবর্তন করবে না। তাঁর বক্তব্যে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, আব্রাহাম চুক্তির আওতায় আরও কয়েকটি দেশকে যুক্ত করা সম্ভব।
নেতানিয়াহুর মতে, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত হিসেবে সামনে আনবে না, কারণ ইসরায়েল এমন শর্ত মেনে নেবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর আমরা এখানে দুইয়ের অধিক দেশের কথা বলছি।
নিজের সরকারের আঞ্চলিক নীতির সাফল্য তুলে ধরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
তিনি বলেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিয়েছি। আমি বলেছিলাম যে আমরা পরিবর্তন আনব, আর ঠিক সেটাই আমরা করেছি।
তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য ঘোষিত ‘বড় চমক’ কী, কিংবা সম্ভাব্য সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের পরিধি কতটা বিস্তৃত হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের। আল জাজিরা