• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ইরানের সক্ষমতা দেখে কোনো শত্রু হামলার সাহস পাবে না: পেজেশকিয়ান বিশ্ববাজারে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছাল তেল হুথি হামলায় সম্পৃক্ততার সৌদি অভিযোগ অস্বীকার ইরানের দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নারী ফুটবলের ফাইনালে উত্তেজনা-সংঘর্ষ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ যবিপ্রবি

পার্শা বিনতে শরীফ, যবিপ্রবি প্রতিনিধি / ৩৪ Time View
Update : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নারী ফুটবল প্রতিযোগিতা–২০২৬-এর ফাইনালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) খেলোয়াড়দের মারধর ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় খেলা বর্জন করে মাঠ ছেড়ে চলে গেছে যবিপ্রবির নারী ফুটবল দল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে অননুমোদিত খেলোয়াড় অংশ নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ।

বিস্তারিত ঘটনা দেখতে ভিডিও লিংকে ক্লিক করুন:- 

শনিবার (১৭ অক্টোবর)8 সকাল ১০টায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে দুই দলের ফাইনাল ম্যাচ শুরু হয়। খেলার একপর্যায়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক খেলোয়াড় যবিপ্রবির খেলোয়াড় রুমির গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ করেন যবিপ্রবির খেলোয়াড়েরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিরi সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মাঠের বাইরে থাকা সমর্থকেরাও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী খেলোয়াড় রুমি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে বাইরের খেলোয়াড় খেলানোর অভিযোগ ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এ কারণে তাদের সঙ্গে খেলেনি। খেলার মধ্যে আমাদের গোলকিপার পড়ে গেলে আমরা তাকে উঠে দাঁড়াতে বলছিলাম। তখন তাদের একজন খেলোয়াড় এসে প্রথমেই আমার গলায় চাপ দেয়। পরে এ নিয়ে কথা বলতে গেলে তারা আরও উত্তেজিত হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

খেলা পুনরায় শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে রুমি বলেন, তাঁদের খেলা বাতিলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখনো হয়নি। তবে নিরাপত্তার অভাব এবং নিজেদের ও শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তাঁরা মাঠ ছেড়ে আসেন। তাঁর ভাষ্য, নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় আবার মাঠে নামলে পুনরায় হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলের সমর্থকদের গাছের ডাল ভেঙে লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করতে আসার অভিযোগও করেন তিনি।

খেলোয়াড়দের সঙ্গে যাওয়া যবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট ড. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে অংশ নেওয়া কয়েকজন খেলোয়াড়ের শিক্ষার্থী পরিচয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম8 বিশ্ববিদ্যালয় আগেই আপত্তি জানিয়েছিল। একই অভিযোগে আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ ছেড়ে চলে যায়। তবে আয়োজকদের আশ্বাসে এবং খেলোয়াড়দের পরিচয় ও নিরাপত্তা7 নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে যবিপ্রবির দল ফাইনালে অংশ নেয়।

তিনি বলেন, খেলার শুরু থেকেই যবিপ্রবির খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং স্লেজিংয়ের7 ঘটনা ঘটছিল। একপর্যায়ে একজন খেলোয়াড় বিষয়টি রেফারিকে জানালে তিনি লাল কার্ড দেখান। পরে প্রতিবাদ জানানো হলে সেই কার্ড প্রত্যাহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ড. ফারহানা ইয়াসমিনের ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে গোলকিপার বল ধরে ফেললে দৌড়ে যাওয়া যবিপ্রবির এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে তাঁর সামান্য ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়েরা যবিপ্রবির এক খেলোয়াড়ের কলার চেপে ধরেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাঠের বাইরে থাকা সমর্থকেরা মাঠে ঢুকে পড়েন এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, তাঁদের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্সি পরা এক খেলোয়াড়কে মাঠের বাইরে থেকে গাছের ডাল ভেঙে ভেতরে আনতে দেখা গেছে বলে তাঁরা দাবি করছেন। ওই ডাল দিয়ে মারধরের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সংঘর্ষে যবিপ্রবির খেলোয়াড়দের মারধর করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে।

ড. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনার পর খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন। আয়োজক কমিটি খেলার শেষ কয়েক মিনিট পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিলেও খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁরা তাতে রাজি হননি।

তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে ন্যায়বিচার দাবি করা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে অংশ নেওয়া কয়েকজন খেলোয়াড়ের শিক্ষার্থী পরিচয় নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই বিতর্কের কথা জানিয়েছে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। একই অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দল প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও টুর্নামেন্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category