• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

“ফরিদপুরে রাতে ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক” সকালে মৃত, পরিবারের অভিযোগ নির্যাতনের

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি / ৩৬ Time View
Update : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় মাদকসহ আটকের পাঁচ ঘণ্টা পর এক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত (৩০) মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত এস্কেন্দার হায়দারের ছেলে। তিনি বিএ পাশ করার পাশাপাশি আইন বিভাগের ছাত্র ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ শনিবার গভীর রাতে তাকে আটক করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত প্রায় ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রান্তকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে এসে জেলা গোয়েন্দা শাখার হাজতে রাখা হয়। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে প্রান্তের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, আটক করার পর ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

নিহতের চাচা ও মধুখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর বলেন, “গত রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আমার ভাতিজা প্রান্তকে আটক করে। আজ সকালে জানতে পারি, সে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে ছুটে গেছেন। আমি অসুস্থ থাকায় বাড়িতে রয়েছি। এর বেশি কিছু জানি না।”

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ‌ জানান, “মধুখালী এলাকা থেকে গাঁজাসহ এক আসামিকে আটক করা হয়েছিল। পরে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category