• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ইরানের সক্ষমতা দেখে কোনো শত্রু হামলার সাহস পাবে না: পেজেশকিয়ান বিশ্ববাজারে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছাল তেল হুথি হামলায় সম্পৃক্ততার সৌদি অভিযোগ অস্বীকার ইরানের দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জবি প্রশাসনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জবি শিক্ষার্থীদের ‘গুরুভোজ’ উৎসব আয়োজন , লাইনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

প্রত্যয় শর্মা, ​জবি প্রতিনিধি / ২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

​সব শঙ্কা ও বিতর্ক দূরে ঠেলে অবশেষে উৎসবের আমেজে মাতলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিনভর জবি প্রাঙ্গণে পালিত হলো বহুল আলোচিত ‘গরুভোজ’। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ক্যাম্পাসে নামে হাজারো শিক্ষার্থীর ঢল। দীর্ঘ লাইনে রোদ মাথায় দাঁড়িয়ে টোকেন মিলিয়ে হাসিমুখে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

​ঘটনার শুরু গত ১২ অক্টোবর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করতে গেলে কাছেই থাকা মন্দিরের বিষয়টি উল্লেখ করে কয়েকজন হিন্দু শিক্ষার্থী আপত্তি জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে নোটিশ দেয়।

​প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, মুক্ত ক্যাম্পাসে নিজের পছন্দের খাবার খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অযৌক্তিক। বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে বুধবার রাতে জকসুর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা ভাস্কর্য চত্বরে জোরালো আন্দোলন শুরু করলে প্রশাসন নোটিশটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। সেখান থেকেই আসে আজকের এই বড় আয়োজনের ঘোষণা।

​আজ জুমার নামাজের পর পুরো ক্যাম্পাস যেন ঈদ উৎসবে রূপ নেয়। লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নেওয়া আল-আমিন নামে এক সাধারণ শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে পড়াশোনা করি, আড্ডা দিই। এখানে কোনো ধর্ম বা মানুষের প্রতি আমাদের বিদ্বেষ নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে নিজেদের পছন্দের খাবার আনন্দ করে খাচ্ছি, এটুকুই। এটাকে সংঘাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।”

​খাবার গ্রহণে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, “ক্যাম্পাস আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি। সেখানে কোনটা খাওয়া যাবে আর কোনটা যাবে না—প্রশাসনের এমন হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা আমাদের আহত করেছিল। আজকের এই ভিড় প্রমাণ করে আমরা সব বিতর্ক ঠেলে একসঙ্গে উদ্‌যাপন করতে জানি।”

​তবে দুর্গাপূজার কাছাকাছি সময়ে এমন কর্মসূচি ক্যাম্পাসের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না তা নিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ কিছু সংগঠন ও শিক্ষার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিনভর এ নিয়ে নানা মতামত দেখা গেছে।

​তবে সব আলোচনা-সমালোচনার মাঝেও কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category