সরকারের অগ্রগতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের অগ্রগতি বেশ জোরেশোরেই শুরু হয়েছে৷ এই সরকার যখন যাত্রা শুরু করেছিল তখন প্রশাসনিক বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বলেন, বিচারই বলেন সবক্ষেত্রে যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল, সেই পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে সামাল দিয়ে তারপর কাজ শুরু করতে হয়েছে৷ আপনি যদি দেখেন সবক্ষেত্রে বৈষম্যের কথা বলে যে আন্দোলনগুলো হয়েছে, প্রত্যেকটা আন্দোলনের সঙ্গেই সরকার বসেছে৷ প্রত্যেকটা আন্দোলনের কথাই শুনেছে৷ তারপর একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছে৷ সরকার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সেটা যারা আন্দোলন করেছে তারা মেনে নিয়েছে৷ বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে কতগুলো জায়গাতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে৷ বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করতে হবে, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে, দুদককে শক্তিশালী করতে হবে, গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে হবে, সবচেয়ে বড় কথা হলো জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে হবে৷ আমাদের দেশে যে একটা ভিভিআইপি কালচার গড়ে উঠেছিল সেটাকে ভাঙতে হবে৷ এর প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে সরকার তার কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে৷ কোথায় কোথায় সংস্কার করলে আমরা বৈষম্যমুক্ত সমাজ পাবো, ভিভিআইপি সংস্কৃতি ভাঙতে পারবো সেই কাজগুলো হচ্ছে৷ প্রশ্নের শেষ উত্তরে আমি বলব, কদিন আগেই যদি আপনি দেখেন আমাদের যিনি সরকারপ্রধান তিনি এয়ারপোর্টে প্রবাসী শ্রমিক ভাই-বোনদের জন্য আলাদা একটা লাউঞ্জ করেছেন৷ এ যাবৎকাল আমরা ভিআইপি ও ভিভিআইপি কাউন্টার দেখেছি৷ এখন থেকে সেখানে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য আলাদা কাউন্টার দেখা যাবে৷ ফলে যাত্রাটা শুরু হয়েছে৷’
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে হতাহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের রক্তের উপরতো এই সরকার প্রতিষ্ঠিত বললেন, যারা আন্দোলন করেছেন তাদের সঙ্গে যারা আন্দোলনে ছিলেন তারাও এই সরকারের অংশ৷ তারাও প্রতিনিয়ত বিক্ষোভ, দাবি সামাল দিচ্ছেন৷ আমরাও কিন্তু এই আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম৷ ফলে আমাদের এটা অন্য কারও কাছ থেকে জানতে হবে না যে, কতটা রক্ত মানুষ ঝরিয়েছে৷ ওইটা সম্পূর্ণ সম্মান আমরা করি৷ আর সেটাকে ধারণ করি বলেই প্রথম থেকে আমরা বলে আসছি আমরা আসলে ক্ষমতা না, দায়িত্ব গ্রহণ করেছি৷ অনেকেরই চিকিৎসা হচ্ছে না, এই কথাটা বলা ঠিক না৷ কোনো কোনো জায়গা থেকে এখনওছবি নামানো প্রসঙ্গে ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’র কথা বললেন উপদেষ্টা অভিযোগ আসছে যে, চিকিৎসা হচ্ছে না৷ কারণ হচ্ছে, অনেকে যোগাযোগটা করতে পারেনি৷ অনেকে ঠিক আন্দোলনের সঙ্গে ছিল বলে আহত হয়েছে তা না৷ হয়ত ওই দিক দিয়ে যাচ্ছিল বলে আহত হয়েছে৷ ওই যোগাযোগটা স্থাপন করতে সময় লেগেছে৷ যখনই আমরা খবর পাচ্ছি বা কোনো সূত্র থেকে জানতে পারছি কেউ আহত হয়েছিল এই আন্দোলনে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি এমন একটাও দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন না৷ তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ আবার প্রথমদিকে যারা মারা গেছেন তাদের লাশ পোস্টমর্টেম না করেই পরিবার নিয়ে চলে গেছেন৷ ফলে সেখানে সরকারি সিস্টেমে ভেরিফিকেশনে সময় লেগেছে৷ তবে সেটাও চূড়ান্ত হয়ে গেছে৷ আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঢাকায়ও এন্ট্রি হয়েছে ঢাকার বাইরেও এন্ট্রি হয়েছে৷ সেগুলো ভেরিফিকেশনে সময় লাগছে৷ কিন্তু আমাদের নজরে আনা হয়েছে কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নেইনি, এমন দৃষ্টান্ত আমার জানা নেই৷’
নানা ইস্যুতে ছাত্ররা এখনো কেন রাস্তায় এমন বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজপথে যারা দাবি করছেন তারা আলোচনায় বসবেন না, এমন কথা তো বলেন নাই৷ সরকারের সকল সিদ্ধান্তে সকলে একমত হবেন এমন কথা নেই৷ সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কারও যদি আপত্তি থাকে, আমরা আহ্বান করি আমাদের আলোচনার দুয়ার সব সময়ই খোলা৷ রাজপথে যখন কোনো আন্দোলন হয়, তখন সেটা আমরা শুনি এবং ধর্তব্যে নেই, বিবেচনা করি৷ আপনি যদি খেলাল করেন সরকারি চাকরিতে বয়সের যে বিষয়টা, সেখানে বয়স ৩৫ এবং তাদের দাবি ছিল অনেকবার পরীক্ষা দেওয়ার৷ আমরা বললাম, বয়স ৩২ এবং পরীক্ষা দেওয়া যাবে তিনবার৷ এরপর তারা আবার দাবি করল, তিনবার না, চারবার সুযোগ দিতে হবে৷ আমরা কিন্তু তাদের সেই দাবি শুনেছি৷ অনেকেই অনেক রকম দাবি তুলতে পারে, সরকার সবটাই শুনবে এবং সরকারের আলোচনার দুয়ার সবার জন্য খোলা৷’







