• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
মালদ্বীপে নতুন সাজে সজ্জিত সুস্বাদু বাংলা খাবারের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ‘হোটেল এয়ার’ শ্রাবণের পক্ষে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ওয়ারিশ সূত্রে পৈত্রিক সম্পত্তির দাবি, ভোগদখল না পাওয়ার অভিযোগ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার লিংক রোডে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নেত্রকোনায় বাজারে ফাঁকা গুলি,নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতে তাঁতীদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ স্ত্রীর দেবীদ্বারে কোটি টাকার সড়কে মাটির কারসাজি! ২ মাস ধরে জেলা ও মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে অভিযোগেও নীরব প্রশাসন, লুটপাটের উৎসব দেবিদ্বারে সরকারি মূল্য অমান্য করে চড়া দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি ‘বেটিং সাইটের এজেন্ট’ থেকে কোটি টাকার সম্পদ: নাজিমের ফাঁদে নিঃস্ব তরুণরা কুমিল্লায় জয়যাত্রা পরিবারের মিলনমেলা ও ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সাংবাদিকের মোবাইল জব্দ, এসআই সোহেলের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

অনলাইন ডেস্ক / / / ৮৪ Time View
Update : শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৪

বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সরকারের অগ্রগতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের অগ্রগতি বেশ জোরেশোরেই শুরু হয়েছে৷ এই সরকার যখন যাত্রা শুরু করেছিল তখন প্রশাসনিক বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বলেন, বিচারই বলেন সবক্ষেত্রে যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল, সেই পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে সামাল দিয়ে তারপর কাজ শুরু করতে হয়েছে৷ আপনি যদি দেখেন সবক্ষেত্রে বৈষম্যের কথা বলে যে আন্দোলনগুলো হয়েছে, প্রত্যেকটা আন্দোলনের সঙ্গেই সরকার বসেছে৷ প্রত্যেকটা আন্দোলনের কথাই শুনেছে৷ তারপর একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছে৷ সরকার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সেটা যারা আন্দোলন করেছে তারা মেনে নিয়েছে৷ বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে কতগুলো জায়গাতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে৷ বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করতে হবে, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে, দুদককে শক্তিশালী করতে হবে, গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে হবে, সবচেয়ে বড় কথা হলো জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে হবে৷ আমাদের দেশে যে একটা ভিভিআইপি কালচার গড়ে উঠেছিল সেটাকে ভাঙতে হবে৷ এর প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে সরকার তার কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে৷ কোথায় কোথায় সংস্কার করলে আমরা বৈষম্যমুক্ত সমাজ পাবো, ভিভিআইপি সংস্কৃতি ভাঙতে পারবো সেই কাজগুলো হচ্ছে৷ প্রশ্নের শেষ উত্তরে আমি বলব, কদিন আগেই যদি আপনি দেখেন আমাদের যিনি সরকারপ্রধান তিনি এয়ারপোর্টে প্রবাসী শ্রমিক ভাই-বোনদের জন্য আলাদা একটা লাউঞ্জ করেছেন৷ এ যাবৎকাল আমরা ভিআইপি ও ভিভিআইপি কাউন্টার দেখেছি৷ এখন থেকে সেখানে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য আলাদা কাউন্টার দেখা যাবে৷ ফলে যাত্রাটা শুরু হয়েছে৷’

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে হতাহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের রক্তের উপরতো এই সরকার প্রতিষ্ঠিত বললেন, যারা আন্দোলন করেছেন তাদের সঙ্গে যারা আন্দোলনে ছিলেন তারাও এই সরকারের অংশ৷ তারাও প্রতিনিয়ত বিক্ষোভ, দাবি সামাল দিচ্ছেন৷ আমরাও কিন্তু এই আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম৷ ফলে আমাদের এটা অন্য কারও কাছ থেকে জানতে হবে না যে, কতটা রক্ত মানুষ ঝরিয়েছে৷ ওইটা সম্পূর্ণ সম্মান আমরা করি৷ আর সেটাকে ধারণ করি বলেই প্রথম থেকে আমরা বলে আসছি আমরা আসলে ক্ষমতা না, দায়িত্ব গ্রহণ করেছি৷ অনেকেরই চিকিৎসা হচ্ছে না, এই কথাটা বলা ঠিক না৷ কোনো কোনো জায়গা থেকে এখনওছবি নামানো প্রসঙ্গে ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’র কথা বললেন উপদেষ্টা অভিযোগ আসছে যে, চিকিৎসা হচ্ছে না৷ কারণ হচ্ছে, অনেকে যোগাযোগটা করতে পারেনি৷ অনেকে ঠিক আন্দোলনের সঙ্গে ছিল বলে আহত হয়েছে তা না৷ হয়ত ওই দিক দিয়ে যাচ্ছিল বলে আহত হয়েছে৷ ওই যোগাযোগটা স্থাপন করতে সময় লেগেছে৷ যখনই আমরা খবর পাচ্ছি বা কোনো সূত্র থেকে জানতে পারছি কেউ আহত হয়েছিল এই আন্দোলনে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি এমন একটাও দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন না৷ তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ আবার প্রথমদিকে যারা মারা গেছেন তাদের লাশ পোস্টমর্টেম না করেই পরিবার নিয়ে চলে গেছেন৷ ফলে সেখানে সরকারি সিস্টেমে ভেরিফিকেশনে সময় লেগেছে৷ তবে সেটাও চূড়ান্ত হয়ে গেছে৷ আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঢাকায়ও এন্ট্রি হয়েছে ঢাকার বাইরেও এন্ট্রি হয়েছে৷ সেগুলো ভেরিফিকেশনে সময় লাগছে৷ কিন্তু আমাদের নজরে আনা হয়েছে কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নেইনি, এমন দৃষ্টান্ত আমার জানা নেই৷’

নানা ইস্যুতে ছাত্ররা এখনো কেন রাস্তায় এমন বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজপথে যারা দাবি করছেন তারা আলোচনায় বসবেন না, এমন কথা তো বলেন নাই৷ সরকারের সকল সিদ্ধান্তে সকলে একমত হবেন এমন কথা নেই৷ সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কারও যদি আপত্তি থাকে, আমরা আহ্বান করি আমাদের আলোচনার দুয়ার সব সময়ই খোলা৷ রাজপথে যখন কোনো আন্দোলন হয়, তখন সেটা আমরা শুনি এবং ধর্তব্যে নেই, বিবেচনা করি৷ আপনি যদি খেলাল করেন সরকারি চাকরিতে বয়সের যে বিষয়টা, সেখানে বয়স ৩৫ এবং তাদের দাবি ছিল অনেকবার পরীক্ষা দেওয়ার৷ আমরা বললাম, বয়স ৩২ এবং পরীক্ষা দেওয়া যাবে তিনবার৷ এরপর তারা আবার দাবি করল, তিনবার না, চারবার সুযোগ দিতে হবে৷ আমরা কিন্তু তাদের সেই দাবি শুনেছি৷ অনেকেই অনেক রকম দাবি তুলতে পারে, সরকার সবটাই শুনবে এবং সরকারের আলোচনার দুয়ার সবার জন্য খোলা৷’

বঙ্গভবনসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামানোর বিষয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এই সরকার সংবিধানটাকে বাতিল করেনি, অস্বীকার করেনি, স্থগিত করেনি৷ কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের ফলে আসা একটা সরকারকে সংবিধানের প্রত্যেকটা অক্ষর যদি মেনেই চলতে হতো তাহলে তো গণঅভ্যুত্থানটা হতো না, এই সরকারটাও হতো না৷ এখন ডকট্রিন অব নেসেসিটির একটা বিষয় আছে৷ গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খার একটা বিষয় আছে৷ গণঅভ্যুত্থানের মূল্যবোধের একটা বিষয় আছে৷ এখানে ছবি নামানোটা মুখ্য নয়৷ এখানে হচ্ছে, যে জিনিসগুলোকে পুঁজি করে ফ্যাসিজমটা চলেছে সেই জিনিসের বিরুদ্ধে, সেই প্র্যাকটিসের বিরুদ্ধে একটা অবস্থান নেওয়া৷ এটাকে সাংবিধানিক আলোকে দেখার সুযোগ আছে বলে মনে করছি না৷’

সরকার আন্তর্জাতিক কোনো চাপ অনুভব করছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক কোনো চাপ সেই অর্থে অনুভব করছি না৷ বরং আন্তর্জাতিক বড় ক্ষেত্র আমাদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা দেখি, কোনো কোনো উত্তেজনা এখানে হয়ত সৃষ্টিই করা হয়, কোনো ঘটনা সেই অর্থে সাম্প্রদায়িক নয় সেগুলো বিদেশে নানাভাবে প্রচার করা হয়৷ সেক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে৷ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সমাজ আগেও ছিল না, এখনও নেই, ভবিষ্যতেও হবে না৷ আমার জন্মই তো এদেশে, অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশ ছেড়ে চলে যাইনি৷ এদেশেই আছি৷ ফলে মাঝেমধ্যে মনে হয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এই সরকারের যে গ্রহণযোগ্যতা সেটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটা সুসংগঠিত প্রচার চালানো হচ্ছে৷ যেটা অপপ্রচারেই সামিল৷ সেখানে আমাদের বাড়তি সময় দিতে হচ্ছে৷ ওই সময়টা যদি আমরা ওদিকে না দিয়ে দেশ গঠনের কাজে, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের কাজে, প্রশাসনের সংস্কারের কাজে, বিচার বিভাগের সংস্কারের কাজে দিতে পারতাম সেটা আমাদের জন্য ভালো হতো৷’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category