• মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
ভাঙ্গুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫ টি ঘর বিক্রির ও পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া-মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বাউরা পূনম চাঁদ ভুতোরিয়া কলেজে আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরুষ্কার বিতরন প্রবাসীদের দুয়ারে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসীদের কল্যাণ, মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার এক ম্যাচ বাকি থাকতে ব্রাজিল শিবিরে আতঙ্ক, নকআউট পর্বের শুরুতেই কঠিন প্রতিপক্ষ! বাংলাদেশের সন্নিকটে ৩ নতুন বিমানবন্দর তৈরি করবে ভারত সংসদের সবাইকে ১০ কেজি করে আম উপহার দিলেন জামায়াত আমির ভারতে কোচিং সেন্টারে আগুন, নিহত ১৫ কামড় দেওয়া সাপ নিয়ে হসপিটালে যুবক বিদেশি পর্যটককে হেনস্তা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘হিরো নানা’ গ্রেপ্তার ডিসি সারওয়ারকে খোলা চিঠি, মাজারের বিরুদ্ধে অজানা তথ্য ফাঁস

রংপুরে দাদন ব্যবসায়ীর হামলায় ১২ পরিবার বাড়ি ছাড়া

শিল্পী আক্তার, রংপুর ব্যুরো / / ৯৬ Time View
Update : শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫

রংপুর সদর হাসপাতাল হরিজন কলোনি গলিপথূ নিঃস্তব্ধ। ভাঙা দরজা, তালাবদ্ধ ঘর, আর শূন্য উঠোনে ঝুলে আছে কাপড়ের টুকরো—যেন কোনো আকস্মিক ঝড়ে উড়ে যাওয়া জীবনের অবশিষ্ট চিহ্ন। এই নিস্তব্ধতার পেছনে আছে এক ভয়াবহ গল্প—দাদন ব্যবসায়ী হৈমন্তী রানী ও তার সহযোগীদের হামলায় উচ্ছেদ হয়েছে বারোটি হরিজন পরিবার।

শনিবার দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এই পরিবারের সদস্যরা কাঁপা গলায় বলছিলেন তাদের নিপীড়নের কথা। বক্তারা অভিযোগ করেন, দাদন ব্যবসায়ী হৈমন্তী, টুটুল, তপন, রনজিত, জয় ও রানা মিলে কলোনিতে এক আতঙ্কের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলা, হুমকি আর উচ্ছেদ—এ যেন রোজকার দুঃস্বপ্ন।
কলোনির বাসিন্দা সজনী রাণীর গলায় আতঙ্কের সাথে জমে থাকা ক্ষোভ। “তার কথা মতো না চললে এলাকায় থাকা মুশকিল,’ বললেন তিনি। “আমার মায়ের কাছে সুদের টাকা পায়। সেই টাকার জন্য আমাকে মারধর করে এলাকা ছাড়া করেছে।’

সদর হাসপাতাল কলোনির সাবেক সভাপতি শাকিল বাসফোরের মা জেবা রানী জানালেন, ‘সুদের টাকার জন্য যাকে তাকে ধরে নির্যাতন করে, ঘরে তালা দেয়। আমার ছেলেকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়—তিনটা সেলাই পড়েছিল। এখন আমরা ভয়ে সাহস জুগিয়েছে।

রেখা রানী নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘ছেলে-মেয়েরা পছন্দ করে যে বিয়ে করলে হৈমন্তী মোটা অংকের টাকা দাবি করে। না দিলে এলাকা ছাড়া হতে হয়। সামাজিক অনুষ্ঠানের নামেও চাঁদা নেয়, না দিলে নির্যাতন। আমরা এখন রাস্তায়, বাড়ি ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।’ সমাবেশে রানী বাসফোরের কণ্ঠে উঠে আসে এক আর্তি “আমাদের বাড়ি ফেরার অধিকার ফিরিয়ে দিন।’ হৈমন্তী আর তার সহযোগীদের গ্রেফতার না হলে কলোনিতে শান্তি ফিরবে না।’

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রংপুরের হরিজন সমাজের এক গভীর ক্ষত আবার উন্মোচিত হলো। অর্থের বিনিময়ে জীবনযাপন, সুদের ফাঁদ, আর প্রশাসনিক উদাসীনতা—সব মিলে এই মানুষগুলো যেন নিজেদেরই দেশে পরবাসী হয়ে পড়েছেন। হয়তো আজ বা কাল তারা আবার কলোনিতে ফিরবে, কিন্তু ভয় ও অবিশ্বাসের সেই দেয়াল কি ভাঙা সম্ভব? রংপুর সদর হাসপাতাল হরিজন কলোনির নিভু আলোয় আজও ভেসে বেড়ায় সেই প্রশ্ন-‘আমরা কি আমাদের ঘরে ফিরতে পারব?’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category