নওগাঁ সদর উপজেলার ধামকুড়ি ৮ শহীদের বদ্ধভূমিতে নবনির্মিত স্মৃতিসৌধে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ নওগাঁ জেলা শাখা। মঙ্গলবার (০৫ মে) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়, যা স্মৃতিসৌধকে সবুজ ও নান্দনিক পরিবেশে রূপ দিতে নতুন এক উদ্যোগের সূচনা করে।
স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পর থেকেই পর্যায়ক্রমে এখানে বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ নওগাঁ জেলা কমিটি। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রথম ধাপে কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সোনালু, পলাশ, রংগন ও চেরিসহ নানা প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির।
গাছগুলো যাতে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এজন্য বসুন্ধরা শুভসংঘ নওগাঁ জেলা কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট সরদার সালাউদ্দিন মিন্টু স্মৃতিসৌধের বাউন্ডারির ফাঁকা অংশে প্লাস্টিকের নেট লাগিয়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রফেসর মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম এবং বসুন্ধরা শুভসংঘ নওগাঁ জেলা কমিটির উপদেষ্টা জাহিদ রাব্বানী রশিদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ নওগাঁ জেলা কমিটির সভাপতি সরদার সালাউদ্দিন মিন্টু, সহ-সভাপতি আজাদ হোসেন মুরাদ, রাবেয়া খাতুন বেলী, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, সুষমা সাথী, চন্দ্রময়ী স্বপ্ন, সামিনা সুলতানা, মাহফুজা খাতুন, মাজেদুর রহমান লিটনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
আয়োজকরা বলেন, শহীদদের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে স্মৃতিসৌধ শুধু স্মৃতির স্থান নয়, হয়ে উঠবে একটি সবুজ, জীবন্ত ও শান্তিময় পরিবেশের প্রতীক।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় ধামকুড়ি গ্রামে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে আটজন শহীদ হন। তৎকালীন পুলিশ ইন্সপেক্টর শামসুদ্দিন সরদার, তার দুই ভাই, দুই ভাতিজা, একজন বন্ধু এবং দুই প্রতিবেশীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।শহীদ পুলিশ ইন্সপেক্টর সামসুদ্দিন সরদারের সন্তান যুদ্ধাহত শিশু এডভোকেট সর্দার সালাউদ্দিন মিন্টু। বর্তমানে বসুন্ধরা শুভসংঘ নওগাঁ জেলা কমিটির সভাপতি। ঐদিন শিশু মিন্টু গুলিবিদ্ধ হয়েও বেঁচে যান।
এই শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তাদের স্মৃতিকে আরও গভীরভাবে ধারণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ নওগাঁ জেলা কমিটি। ভবিষ্যতে ধারাবাহিকভাবে আরও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনার কথাও জানান সংগঠনের নেতারা।