কুমিল্লা ব্রাহ্মণ পাড়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালের ডিজিটাল সেবা ও তথ্য অধিকার আইন নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পোর্টাল বা ওয়েবসাইট সচল রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও, তা মানা হচ্ছে না কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
হাসপাতালটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও উপজেলা তথ্য বাতায়নে চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই। দীর্ঘদিন ধরে তথ্য আপডেট না করায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চরম দাপ্তরিক অসচেতনতা ও নিয়মিত তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে ও ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, পোর্টালে প্রদর্শিত চিকিৎসকদের তালিকা, রোস্টার এবং উপস্থিতির তথ্যের সাথে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই। অনেক চিকিৎসক বদলি হয়ে চলে গেলেও তাদের নাম এখনো ঝুলছে ওয়েবসাইটে। আবার নতুন যোগ দেওয়া চিকিৎসকদের কোনো তথ্যই সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগীরা ওয়েবসাইটে দেওয়া তালিকা দেখে হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে ঘরে বসেই চিকিৎসকের তথ্য পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকারি সাইটে ভুল ও পুরোনো তথ্য থাকার কারণে আমাদের টাকা ও সময় দুটোই নষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালে এসে ডাক্তার না পেয়ে বাধ্য হয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করেন, এই অব্যবস্থাপনার জন্য মূলত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO), আইসিটি বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত তদারকির অভাব দায়ী। ডিজিটাল অবকাঠামো সচল রাখতে যেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতা সরকারি দায়িত্ব অবহেলারই শামিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বাতায়ন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আইসিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, লোকবল সংকট এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে নিয়মিত ডেটা আপডেট করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুতই এটি হালনাগাদ করা হবে।অন্যদিকে, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে নিয়মিত মনিটরিং ও অডিট না করার কারণে মাঠপর্যায়ের এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সত্যিই প্রযুক্তিবান্ধব করতে দ্রুত এই পোর্টাল হালনাগাদ এবং অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ।