• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে ১৭ ডলার ‘ধর্ম যায় না’ বলে ২২ উদাহরণ দিলেন রুমিন ফারহানা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে রাজি পুতিন ডিআইজির বাড়িতে ডিজে পার্টি, আটক ৮৪ জনের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিল প্রশাসন বন্ধ মিলগুলো উৎপাদনমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী ‘বাদাম বেচি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলাইছি, আর কি লাগে’ দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হলো: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সাজেকে গোলাগুলির ঘটনা, নিরাপদে গন্তব্যে ফিরেছেন পর্যটকরা অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে চালু হচ্ছে এনইআইআর

সীমান্তে মাইক বাজিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে বিরক্ত করার ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

অনলাইন ডেস্ক / ১৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে আবারও বিশালাকার লাউডস্পিকার চালুর ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে নতুন সামরিক অবস্থান ও প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে দেশটি। দক্ষিণ কোরিয়াকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, পিয়ংইয়ংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখলে সিউলকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ পুরো সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার সক্রিয় করা হবে।

এর আগে বুধবার রাতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের সেনা দুর্গ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো সীমান্তে নতুন অবস্থান নিয়েছে বলেও জানান কিম ইয়ো জং।

কিম ইয়ো জংয়ের অভিযোগ, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সীমান্ত এলাকায় উসকানিমূলক বার্তা সম্প্রচার করেছে এবং কয়েকটি স্থানে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে।

এসব গুলিতে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কোনো সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার বাহিনী বিনা দ্বিধায় ও নির্মমভাবে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করবে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের পদক্ষেপকে আইনসম্মত ও আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও একীভূতকরণ মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, জাতিসংঘ কমান্ডের (ইউএনসি) সহায়তায় অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) নিয়ন্ত্রণ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিম ইয়ো জংয়ের প্রতিক্রিয়াকে সিউলের এসব পদক্ষেপের কার্যকারিতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে দেশটি।

তবে উত্তর কোরিয়া হুমকি বাস্তবায়ন করলে দক্ষিণ কোরিয়াও সমানুপাতিক ও উপযুক্ত জবাব দেবে বলে জানিয়েছে সিউল।

কিম ইয়ো জংয়ের এই হুঁশিয়ারিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের দুই দেশের বৈরিতা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই কোরিয়ার সম্পর্কের উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর প্রশাসন।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে দুই দেশ পৃথক হয়ে যায়। এরপর থেকে ডিএমজেড সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশই এই সীমান্তে প্রচারযুদ্ধের অংশ হিসেবে বড় আকারের লাউডস্পিকার ব্যবহার করে আসছে। এসব মাইকের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো এবং নিজ দেশের বক্তব্য প্রচার করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুল মনে করেন, কিম ইয়ো জংয়ের হুমকির অর্থ এই নয় যে লাউডস্পিকারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে চালু হয়ে যাবে। তবে এ ঘোষণা প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের প্রশাসনের সামনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক দ্বিধা তৈরি করেছে।

সীমান্তে লাউডস্পিকার পুনরায় চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুই কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রচারযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category