• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
দেবীদ্বারে এলজিইডির কোটি কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণে হরিলুট: উধাও সাইনবোর্ড, তথ্য চাইলে মামলার হুমকি দেবিদ্বারে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‌্যালি ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী নয়, প্রয়োজন জনগণেরঅংশগ্রহণ-জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে কৃষ্ণা দে (১৫) নামে কিশোরী নিখোঁজ: বন্দর থানায় জিডি দায়ের মুরাদনগরে চোরাই সিএনজিসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের তিন সদস্য আটক ক্রসফায়ারকে না বলার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাম ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, নিহত ৪ শিগগিরই আয়োজন করা হবে পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠক: ট্রাম্প শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান

দেবীদ্বারে এলজিইডির কোটি কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণে হরিলুট: উধাও সাইনবোর্ড, তথ্য চাইলে মামলার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২২ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
দেবীদ্বারে এলজিইডির কোটি কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণে হরিলুট: উধাও সাইনবোর্ড, তথ্য চাইলে মামলার হুমকি

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে চলমান কোটি কোটি টাকার গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের সুরকি ও রাবিশ দিয়ে রাস্তার কাজ শেষ করছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, উপজেলার কোথাও কোনো চলমান কাজের তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড বা নির্দেশিকা টাঙানো হয়নি। এমনকি কাজের এস্টিমেট বা শিডিউল কপি দেখতে চাইলে স্থানীয় নাগরিক ও সাংবাদিকদের ‘চাঁদাবাজি মামলা’র ভয় দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারেরা।

সরেজমিনে দেবীদ্বার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে দুর্নীতির এই চিত্র। উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে প্রায় ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দের একটি রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ফতেহাবাদ খলিলপুর বাজার থেকে সুলতানপুর পর্যন্ত, রসুলপুর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত এবং রসুলপুর থেকে খাইয়ের ফকির বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে। কিন্তু কোনো একটি রাস্তায়ও এলজিইডির নিয়ম অনুযায়ী সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়নি।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো পাবলিক ওয়ার্কস বা জনকল্যাণমূলক কাজের সাইডে প্রাক্কলিত ব্যয়, ঠিকাদারের নাম, কাজের মেয়াদ ও বিবরণ সংবলিত দৃশ্যমান সাইনবোর্ড থাকা বাধ্যতামূলক। একই সাথে কাজ চলাকালীন সাইডে এস্টিমেট বা শিডিউল কপি রাখার নিয়ম রয়েছে, যাতে সচেতন নাগরিক বা গণমাধ্যমকর্মীরা কাজের গুণগত মান যাচাই করতে পারেন। কিন্তু দেবীদ্বারের এই প্রকল্পগুলোতে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাইডে কোনো শিডিউল কপি না থাকায় ঠিকাদারেরা নিজেদের ইচ্ছামতো নিম্নমানের সামগ্রী, রাবিশ ও সুরকি দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ করছেন। কোনো সচেতন নাগরিক বা সাংবাদিক এ বিষয়ে জানতে চাইলে বা এস্টিমেট কপি দেখতে চাইলে ঠিকাদারের লোক ও শ্রমিকেরা চড়াও হন এবং চাঁদাবাজি মামলার ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেন।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীরা কি তাহলে তাদের সঠিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন, নাকি তাদের পরোক্ষ প্রশ্রয়েই ঠিকাদারেরা এই ধরণের অনিয়ম করার সাহস পাচ্ছেন? কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দের এই নয়ছয় বন্ধে এবং দেবীদ্বারের গ্রামীণ সড়কগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও জরুরি তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category