• বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কাটায় অভিযোগ কামরুল–জসিম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি / / ৪৬ Time View
Update : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৬নং ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র গভীর রাতে কৃষিজমি, সরকারি খাস জমি এমনকি গাঙের পাড় থেকেও অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে ইটভাটায়।

অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণপুর গ্রামের রাজ্জাক মজুমদারের ছেলে কামরুল হাসান এবং সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জসিম মিলে একটি মাটি কাটার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের নেতৃত্বে রাতের বেলায় ভেকু (এক্সকাভেটর) ও ট্রাক ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, ফসলি জমি থেকে এভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। অনেক জমি নিচু হয়ে যাওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভবিষ্যতে এভাবে চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু কৃষিজমিই নয়—সরকারি খাস জমি ও গাঙের পাড় থেকেও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।

একাধিকবার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ভেকু জব্দ এবং নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করলেও থামানো যাচ্ছে না এই অবৈধ কার্যক্রম। প্রশাসনের অভিযানের পর সাময়িক বিরতি দিলেও কিছুদিন পর আবারও রাতের আঁধারে শুরু হয় মাটি কাটার কাজ। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন—বারবার অভিযান ও জরিমানার পরও কেন বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ মাটি কাটা?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতির শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, অবিলম্বে নিয়মিত অভিযান জোরদার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category