ঢাকার ধামরাইয়ে পর্নোগ্রাফি ও নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পলাতকসহ ১৫ থেকে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে ধামরাই পৌরসভার পাঠানটোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সৈয়দ ইউসুফ আলী প্রান্ত (৩০) ও নাইম ইসলাম (৪০)। তারা উভয়ই ধামরাইয়ের পাঠানটোলা এলাকার বাসিন্দা। নাইম ইসলাম ধামরাই উপজেলা যুবদলের সদস্য। তিনি ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- আনিকা রায়হান সুচনা (২৯), রায়হানসহ (২৪) অজ্ঞাত ১০ থেকে ১৫ জন। তারা প্রধান আসামি প্রান্তর স্বজন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- মো. আইয়ুব আলী ও শামীম আল মামুন, মো. কাশেম হোসেন ও আব্দুস সামাদ
পুলিশ জানায়, গতকাল বুধবার পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ধামরাই থানায় একটি মামলা (নম্বর-২৪) করা হয়। ওই মামলার দুই আসামি সৈয়দ ইউসুফ আলী প্রান্ত ও তার স্ত্রী আনিকা রায়হান সুচনাকে গ্রেপ্তারে বিকেল ৩টার দিকে অভিযানে যায় থানা পুলিশ। এ সময় আসামিরা দেশিয় অস্ত্রসহ হুমকি দেয় ও তাদের বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা করে তাদের মাথা, হাত, পাসহ শরীরে নিলাফুলা জখম করে। এতে পুলিশ সদস্য আইয়ুব আলী ও শামীম আল মামুন আহত হন। পরে খবর পেয়ে আরও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্য মো. কাশেম হোসেন ও আব্দুস সামাদ জখম হন। একপর্যায়ে দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানার দিকে রওনা হলে আসামিদের সহযোগিরা পুলিশের পিকআপের গতিরোধ করে। তারা পুলিশ সদস্য মো. আইয়ুব আলীর পোশাক ছিঁড়ে ফেলে। আহত পুলিশ সদস্যদের ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে পেনাল কোডের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।