• সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন

ধেয়ে আসছে ‘এল নিনো’, মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা!

অনলাইন ডেস্ক | / ৪২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে আবারও ফিরে আসতে পারে জলবায়ুর চরম রূপ ‘এল নিনো’। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।

সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। আর চলতি বছরের নভেম্বর নাগাদ এর শক্তিশালী রূপ নেওয়ার আশঙ্কা ৯০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক ভিডিওবার্তায় বলেন, “এল নিনো আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। এটিকে বৈশ্বিক জলবায়ু জরুরি সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।”

জলবায়ুর এই চরম রূপ কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো সক্রিয় হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্র ভেঙে পড়ে। কোথাও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, কোথাও দীর্ঘমেয়াদি খরা, আবার কোথাও ভয়াবহ তাপদাহ দেখা দিতে পারে।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চল, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় তীব্র খরার ঝুঁকি রয়েছে। একইসঙ্গে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কাও বাড়বে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের এল নিনো মাঝারি থেকে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এর প্রভাব অতীতের তুলনায় আরও ভয়াবহ হতে পারে।

ইতোমধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। ফলে অতিরিক্ত উষ্ণ পৃথিবীতে এল নিনোর প্রভাব খরা, দাবদাহ ও বন আগুনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনোর কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, খাদ্য সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং পানির সংকট তীব্র হতে পারে। একইসঙ্গে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব চেলেস্তে সাউলো বলেন, ২০২৩-২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বব্যাপী রেকর্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। নতুন করে এল নিনো ফিরে এলে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে এল নিনো শুধু আবহাওয়ার ঘটনা নয়, বরং এটি খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category