• সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

পছন্দের মানুষকে বিয়ে করায় তরুণীকে হত্যা করে পুড়িয়ে দিল মা ও ভাই!

অনলাইন ডেস্ক | / ২৪ Time View
Update : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

পছন্দের মানুষকে বিয়ে করে ঘর ছাড়ার অপরাধে এক তরুণীকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ভারতের বিহারের মুজাফফরপুর জেলায় এই অনার কিলিংয়ের (পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে হত্যা) ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীর নাম সুজাতা কুমারী।

এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ ও ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে। মুজাফফরপুরের ঘনসাউত গ্রামের গৌরী শঙ্কর কুমার (২২) নামের এক যুবকের সঙ্গে সুজাতার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ছয় বছরের সম্পর্কের পর পরিবারের অমতেই গত ১৮ জানুয়ারি তাঁরা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর নতুন জীবন শুরু করতে তাঁরা হরিয়ানায় চলে যান। তবে সুজাতার পরিবার থানায় অপহরণের মামলা করলে গত ১১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ এই দম্পতিকে মুজাফফরপুরে ফিরিয়ে আনে। আদালতে সুজাতা নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করার জবানবন্দি দিলেও পুলিশ গৌরী শঙ্করকে কারাগারে পাঠায় এবং সুজাতাকে তাঁর এক খালার জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেয়।

অভিযোগ উঠেছে, সুজাতা খালার বাড়িতে থাকার সময়ই তাঁকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করে পরিবার। গত মার্চ মাসে দোল পূর্ণিমার (হোলি) উৎসবের দিন সুজাতার মা কৌশলে খালাবাড়ি থেকে সুজাতাকে নিজেদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। কিছুদিন পর ৩১ মার্চ কারাগার থেকে মুক্তি পান গৌরী শঙ্কর। সেদিনই সুজাতার সঙ্গে শেষবারের মতো মুঠোফোনে কথা হয় তাঁর। এরপর থেকেই সুজাতা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান।

স্ত্রীর কোনো সন্ধান না পেয়ে এবং স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন গৌরী শঙ্কর। ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, অন্য জাতে বিয়ে করার কারণে সুজাতার পরিবার তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলেছে। পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন। এই ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভি বিষয়টি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

গণমাধ্যমে খবর আসার পর নড়েচড়ে বসে মুজাফফরপুর জেলা পুলিশ। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশে পুলিশ দ্রুত সুজাতার ভাই অভিষেক কুমারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে নিজের বোনকে নৃশংসভাবে খুনের কথা স্বীকার করেন অভিষেক।

অভিষেক পুলিশকে জানান, অন্য জাতির ছেলের সঙ্গে বোনের বিয়ে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না পরিবার। মা সুজাতাকে কৌশলে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর, অভিষেক ও তাঁর কয়েকজন আত্মীয় মিলে সুজাতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ও সমস্ত তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলতে রাতেই তড়িঘড়ি করে সুজাতার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

মুজাফফরপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত মা, ভাইসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category