• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ইরানের সক্ষমতা দেখে কোনো শত্রু হামলার সাহস পাবে না: পেজেশকিয়ান বিশ্ববাজারে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছাল তেল হুথি হামলায় সম্পৃক্ততার সৌদি অভিযোগ অস্বীকার ইরানের দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার স্টিভেনসের খ্যাতির পেছনে ম্যারাডোনা, নেপথ্যে ডাক টিকিটি

অনলাইন ডেস্ক / ৫০ Time View
Update : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার গ্যারি স্টিভেনস ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের স্মৃতি শেয়ার করেছেন—যে ম্যাচ তাকে এনে দিয়েছিল এক অপ্রত্যাশিত খ্যাতি।

১৯৮০-এর দশকের ব্রিটিশ ফুটবলের অন্যতম সেরা ফুলব্যাক ছিলেন গ্যারি স্টিভেনস। ইংল্যান্ডের এভারটন ও স্কটল্যান্ডের রেঞ্জার্সের হয়ে তিনি জিতেছেন লিগ শিরোপা ও কাপ। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন দুটি ফিফা বিশ্বকাপ এবং একটি ইউরোতে। তবে বর্তমানে মজা করে তিনি বলেন, তার “সবচেয়ে বড় পরিচিতি” এসেছে অন্য জায়গা থেকে।

“আমি একটি ডাকটিকিটে আছি,” হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

আর সেটি কোনো সাধারণ ডাকটিকিট নয়, সেটি আর্জেন্টিনার একটি ডাকটিকিট। আর এ জন্য তিনি ধন্যবাদ দেন দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা শিরোপা জয়ের পর দেশটিতে একটি ডাকটিকিট সিরিজ প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে একটি ডাকটিকিটে ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়ের সময় ম্যারাডোনার করা দ্বিতীয় গোলের শেষ মুহূর্তের ছবি।

সেদিন ববি রবসনের ইংল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন স্টিভেনস। ছবিতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ম্যারাডোনা দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ের পর কাছের পোস্টের ভেতর দিয়ে নিচু শটে গোল করার মুহূর্তে ছয় গজ বক্সে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন স্টিভেনস।

বর্তমানে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থের কাছে বসবাস করেন স্টিভেনস। পেশায় তিনি একজন ফিজিওথেরাপিস্ট। একসময় তিনি ডাকটিকিট সংগ্রহ করতেন। নিজের এক রোগীর কাছ থেকেই তিনি জানতে পারেন এই অপ্রত্যাশিত খ্যাতির কথা।

তিনি বলেন, “কয়েক বছর আগে আমি একজনকে চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। সে আমাকে বলল, ‘আমি শুনেছি আপনি একজন ফিলাটেলিস্ট (ডাকটিকিট সংগ্রাহক)।’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ তখন সে বলল, ‘আপনি জানেন, আপনি একটি ডাকটিকিটে আছেন?’”

পরেরবার যখন তিনি ক্লিনিকে আসেন, তখন তিনি চারটি ডাকটিকিটের একটি সেট উপহার দেন, যেখানে ১৯৮৬ সালের ২২ জুনের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি তুলে ধরা হয়েছিল।

স্টিভেনস বলেন, “আন্তর্জাতিক ডাকটিকিটে থাকা আর কাকে চেনেন আপনি?”

তিনি পরে সেই ডাকটিকিটগুলো ফ্রেমে বাঁধিয়ে নিজের বাড়ির দেয়ালে টাঙিয়ে রাখেন।

ম্যারাডোনার দ্বিতীয় গোলের সময় গোলরক্ষক পিটার শিলটন ও সেন্টার-ব্যাক টেরি বুচার মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন। ফলে ছয় গজ বক্সে আক্ষরিক অর্থেই শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্টিভেনস।

ম্যারাডোনার শট ঠেকানোর চেষ্টা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি অপেক্ষা করছিলাম সে কখন পা পেছনে নেবে, যাতে বুঝতে পারি বলটি কোথায় মারবে এবং প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারি। সাধারণত আপনি দেখেন কেউ পা তুলছে কি না, তাহলে বোঝা যায় সে পাশ দিয়ে শট নেবে নাকি অন্য কিছু করবে। এতে একটা ধারণা পাওয়া যায়।”

“আমি অপেক্ষা করছিলাম সে পা পেছনে নিয়ে শট করবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সে পায়ের আঙুল দিয়ে বল ঠেলে দেয়। আমার কাছে সেটিও অসাধারণ ছিল, কারণ সে কী করতে যাচ্ছে তার কোনো ইঙ্গিতই দেয়নি।”

ম্যারাডোনার সেদিনের দুটি গোলই ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পুনরাবৃত্তি হওয়া গোলগুলোর মধ্যে পড়ে। আর প্রথম গোল—‘হ্যান্ড অব গড’—এরও খুব কাছ থেকে সাক্ষী ছিলেন স্টিভেনস।

ম্যারাডোনা ও শিলটনের সবচেয়ে কাছের ডিফেন্ডার হিসেবে তিনি মনে করেছিলেন, ম্যারাডোনা মাথা দিয়েই বল জালে পাঠিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সে আমাকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত করেছিল। আমি দেখেছিলাম সে মাথা দিয়ে যাচ্ছে এবং আমার দৃষ্টিকোণ ছিল অনেকটা রেফারির মতোই। পাশ থেকে দেখলে বোঝা যায় সে হাত দিয়ে বল ঠেলেছিল, কিন্তু একই সঙ্গে সে মাথাও নেড়েছিল। তাই আমি যা দেখেছিলাম, তা ছিল ম্যারাডোনা মাথা দিয়ে বল পাঠাচ্ছে।”

১৯৮৬ সালের সেই বিখ্যাত ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচের আরও অনেক স্মৃতি তুলে ধরেছেন স্টিভেনস।

তিনি প্রথমেই বলেন মাঠের অবস্থা ছিল “খুবই খারাপ”, যা বর্তমান সময়ের দুর্দান্ত মাঠের সঙ্গে তুলনাই করা যায় না।

মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে দুপুর ১২টায় শুরু হয়েছিল ম্যাচটি। উচ্চতা ও প্রচণ্ড গরম ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

স্টিভেনস বলেন, “অ্যাজটেকার উচ্চতায় সবচেয়ে কঠিন বিষয় ছিল তাপমাত্রা।”

এমনকি ম্যাচ শেষে তার শরীর থেকে এত বেশি পানি বের হয়ে গিয়েছিল যে তার ওজন প্রায় ১১ পাউন্ড (প্রায় ৫ কেজি) কমে গিয়েছিল।

সেই সময় এখনকার মতো পানির বোতল বা হাইড্রেশন ব্রেক ছিল না। এর বদলে ছিল অন্য ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, “মেলার গোল্ডফিশ ব্যাগের মতো পানিভর্তি ছোট ব্যাগ ছিল। সেগুলো মাঠে ছুড়ে দেওয়া হতো। সুযোগ পেলেই আপনি একটা তুলে নিতেন, কামড়ে খুলে যতটা সম্ভব পানি খেয়ে নিতেন।”

ম্যাচ শেষে ড্রাগ টেস্টের জন্য তাকে ও টেরি বুচারকে আলাদা কক্ষে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অন্য পাশে বসেছিলেন দুই আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়।

স্টিভেনস বলেন, “জানেন কাদের বেছে নেওয়া হয়েছিল? ম্যারাডোনা এবং ৫ নম্বর জার্সির হোসে লুইস ব্রাউনকে—যিনি পরে ফাইনালে গোল করেছিলেন।”

“তারা পানি পান করছিল, কারণ তারা তখনও টুর্নামেন্টে ছিল। আমরা বাদ পড়ে গিয়েছিলাম, তাই আমাদের দেওয়া হয়েছিল এক বাক্স বিয়ার। প্রায় ৯০ মিনিট আমরা নমুনা দিতে পারিনি, তাই বসে বসে বিয়ার খাচ্ছিলাম—টেরি আর আমি পুরোপুরি মাতাল হয়ে গিয়েছিলাম!”

বর্তমানে আরও পরিষ্কারভাবে চিন্তা করে স্টিভেনস ম্যারাডোনার প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা জানান।

তিনি বলেন, “আমি সবসময় নিজেকে বেশ দ্রুতগতির খেলোয়াড় মনে করতাম। কিন্তু সেই ম্যাচে তার বিপক্ষে খেলতে গিয়ে দেখেছি, ১০ গজের মধ্যে তার গতি ছিল অবিশ্বাস্য। তার মধ্যে আলাদা এক শক্তি ছিল।”

এর সঙ্গে যোগ করেন ম্যারাডোনার অসাধারণ ভারসাম্য ও নিচু মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রের কথা, যা ইংল্যান্ডের সেরা ডিফেন্ডারদেরও পিছনে ফেলে দিয়েছিল।

স্টিভেনস বলেন, “সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে এই ভারসাম্য থাকে। আমি একবার জর্জ বেস্টের বিপক্ষে খেলেছিলাম, জানি না তারা এটা কীভাবে করে।”

“ম্যারাডোনার দ্বিতীয় গোলটি এমন কোনো উন্মত্ত ড্রিবল ছিল না। সে খুব বেশি স্পর্শ নেয়নি—হয়তো ১০ বার। কিন্তু প্রতিটি স্পর্শেই মনে হয়েছে সে একজন করে খেলোয়াড়কে পেছনে ফেলে যাচ্ছে। মেসিও একই রকম। তারা শুধু আপনাকে পেরিয়ে যায়।”

এখন প্রশ্ন হলো, বুধবারের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড কীভাবে মেসিকে আটকাবে এবং ৪০ বছর আগে ম্যারাডোনার বিপক্ষে যে ব্যর্থতা হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠবে?

স্টিভেনস বলেন, “ম্যারাডোনা তখন তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে ছিল—তার জন্য সময়টা ছিল একদম নিখুঁত। কিন্তু মেসিও অনেক অভিজ্ঞ।”

“এই ধরনের সুপারস্টারদের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, আপনি শুধু তাদের আটকানোর পরিকল্পনা করতে পারেন না। কারণ এটি আন্তর্জাতিক ফুটবল, যেখানে মাঠে আরও ১০ জন খেলোয়াড় থাকে।”

তবে ইংল্যান্ডের বর্তমান কোচ টমাস টুখেলের দলের জন্য কিছু পরামর্শও দিয়েছেন স্টিভেনস।

তিনি বলেন, “আমার মনে হয় শুরু থেকেই তাদের আরও বেশি আক্রমণাত্মক হতে হবে। বেশিরভাগ ম্যাচেই তারা প্রথমার্ধে ধীরগতির ছিল।”

“আমার মনে হয় তাদের আর্জেন্টিনার ওপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করা উচিত। এটি হয় জিতবে, নয়তো বিদায়—যে জিতবে সে পরের ধাপে যাবে। তাই চেষ্টা করুক… আর পেনাল্টির দিকে যেন ম্যাচ না যায়।”

সূত্র: ফিফা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category