যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি কঠোরভাবে মেনে চলার এবং তা বহাল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইমান সাফাদি ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
জর্ডানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, আম্মানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই শীর্ষ নেতা “অঞ্চলে চলমান বিপজ্জনক উত্তেজনার মারাত্মক পরিণতি” এবং মধ্যপ্রাচ্যে “শান্তি ও স্থায়ী নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের” বিভিন্ন প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উভয় পক্ষই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং উত্তেজনা সৃষ্টির মূল কারণগুলো দূর করতে একটি ব্যাপক সমাধানে পৌঁছানোর জন্য দ্রুত আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নির্বিঘ্নে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে আঞ্চলিক অন্যান্য সংকট নিয়েও আলোচনা করেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গাজা উপত্যকায় ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রতিটি দিক পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং চলমান মানবিক বিপর্যয় রোধে পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলি সব ধরনের বাধা ও নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেওয়ার তাগিদ দেন আইমান সাফাদি।
পাশাপাশি, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সকল অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেন তিনি। তার মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড অবৈধ দখলদারিত্বকে আরও দীর্ঘায়িত করে, যা কেবল সহিংসতা ও উত্তেজনা বাড়ায় এবং একটি ন্যায়সঙ্গত ও পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রতিষ্ঠার সব সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দেয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রেখেছে এবং তেহরানও টানা চতুর্থ দিনের মতো তাদের পাল্টা আক্রমণ বন্ধ রাখায় বর্তমানে ওই অঞ্চলে একটি সতর্কতামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মেহের নিউজ