• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
রাজশাহীতে ৩৭০০ ট্যাপেন্টাডল ও ১.৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে ১৭ ডলার ‘ধর্ম যায় না’ বলে ২২ উদাহরণ দিলেন রুমিন ফারহানা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে রাজি পুতিন ডিআইজির বাড়িতে ডিজে পার্টি, আটক ৮৪ জনের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিল প্রশাসন বন্ধ মিলগুলো উৎপাদনমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী ‘বাদাম বেচি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলাইছি, আর কি লাগে’ দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হলো: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সাজেকে গোলাগুলির ঘটনা, নিরাপদে গন্তব্যে ফিরেছেন পর্যটকরা

ছাত্রবিক্ষোভ থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নেপথ্যে কি আন্তর্জাতিক বামপন্থী নেটওয়ার্ক?

অনলাইন ডেস্ক / ২২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভের পেছনে আন্তর্জাতিক বামপন্থী নেটওয়ার্কের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে ফ্রান্স ও ভারতের বিক্ষোভের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এতে আমেরিকান ব্যবসায়ী নেভিল রয় সিংহাম ও ভারতীয় মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী বিজয় প্রসাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভে তাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকার অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কমিউনিস্ট, সমাজতান্ত্রিক ও ইসলামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের প্রচার ও বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এই নেটওয়ার্কের তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই নেটওয়ার্ক ভারতে ছাত্রবিক্ষোভেও সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিক্ষোভকে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শিক লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের কারণ ও প্রেক্ষাপট এক নয়। বিক্ষোভগুলোর মধ্যে সমন্বিত কোনো আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।

প্রতিবেদনটিতে নেভিল রয় সিংহামের অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সিংহাম বর্তমানে চীনের সাংহাইয়ে বসবাস করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের বামপন্থী সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমকে অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল, সিংহামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছে। এসব অর্থের একটি অংশ বামপন্থী সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে ফক্স নিউজও সিংহামের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বিজয় প্রসাদকেও সিংহামের ভারতীয় সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্রসাদ একজন মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও পুঁজিবাদের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর নেত্রী বৃন্দা কারাতের ভাতিজা।

তবে সিংহাম ও প্রসাদ ভারতের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সংগঠিত বা পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনায় ভারতের বিক্ষোভের সঙ্গে বিদেশি পক্ষের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এক টেলিভিশন আলোচনায় ভারতের কয়েকটি বিক্ষোভের পেছনে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ভূমিকা থাকতে পারে বলে প্রশ্ন তোলা হয়। আলোচনায় বলা হয়, মিসরের জেসমিন বিপ্লব এবং শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের বিভিন্ন আন্দোলনের ক্ষেত্রেও বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অতীতে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির পক্ষ থেকেও বিভিন্ন আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত তৎপরতার ভূমিকা থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ভারতের গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগও ওই আলোচনায় উঠে আসে। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, দেশে ভোট চুরি হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি নির্বাচনে ব্যালট পেপার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এর জবাবে বিজেপির এক নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে রাজনৈতিক বয়ান হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপির জয় এবং ২০২৪ সালে আসনসংখ্যা কমে যাওয়ার পরও এনডিএ সরকারের ক্ষমতায় থাকা বিরোধীদের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে।

বিজেপি নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো সেসব নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছে। তার অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও উপদেষ্টা ‘ভোট চুরি’র বয়ান সামনে এনেছেন। তবে নির্বাচন নিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ এবং তার জবাবে বিজেপির বক্তব্য—দুটিই রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অবস্থান। এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন, অভিযোগ ও প্রমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নেওয়া সাংবাদিক গৌরব সাওয়ান্ত বলেন, বিভিন্ন দেশের বিক্ষোভের মধ্যে যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তদন্তের বিষয়। তার মতে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন বেআইনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের বিক্ষোভের পেছনে একই ধরনের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অসন্তোষ কাজ করছে কি না, কিংবা কোথাও সমন্বিত সাংগঠনিক তৎপরতা রয়েছে কি না—তা বুঝতে প্রতিটি আন্দোলনের নিজস্ব প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে দায়ী করার আগে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও যথাযথ তদন্তের প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category