• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
দেবীদ্বারে এলজিইডির কোটি কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণে হরিলুট: উধাও সাইনবোর্ড, তথ্য চাইলে মামলার হুমকি দেবিদ্বারে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‌্যালি ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী নয়, প্রয়োজন জনগণেরঅংশগ্রহণ-জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে কৃষ্ণা দে (১৫) নামে কিশোরী নিখোঁজ: বন্দর থানায় জিডি দায়ের মুরাদনগরে চোরাই সিএনজিসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের তিন সদস্য আটক ক্রসফায়ারকে না বলার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাম ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, নিহত ৪ শিগগিরই আয়োজন করা হবে পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠক: ট্রাম্প শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান

নবীনগরে রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, ডিসির হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও তথ্য পাঠিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ!

মোঃ আলমগীর হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি / ৩১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর দক্ষিণ পাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) ও সিডিউল অমান্য করে নামমাত্র কাজ করায় স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধ ও সরেজমিনে তদন্তের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। একই সাথে দ্রুত প্রতিকারের আশায় জেলা প্রশাসকের সরকারি মোবাইল নাম্বারের হোয়াটসঅ্যাপে অনিয়মের লাইভ ছবি ও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাঠিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা যায়, ইব্রাহিমপুর দক্ষিণ পাড়ার দায়েমীয়া দরবার শরীফ থেকে লালু মুন্সি সাহেবের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রাণের দাবি ছিল। দুর্ভোগ লাঘব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাস্তাটি টেকসইভাবে পিচঢালাই করার কাজ শুরু হলেও শুরুতেই দেখা দিয়েছে নানা অনিয়ম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণকাজে সরকারি পরিমাপ ও সিডিউল মোটেও অনুসরণ করা হচ্ছে না। প্রাক্কলন অনুযায়ী যেখানে ১৮ ইঞ্চি বালির স্তর দেওয়ার কথা, সেখানে বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে ১২ ইঞ্চিরও কম। তাও আবার বালির পরিবর্তে মাটির মিশ্রণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ঢালাই ও খোয়ার জন্য অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কংক্রিটের স্তরও নির্ধারিত পরিমাপের চেয়ে অনেক কম দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল যুগে এই অনিয়ম আড়াল করার সুযোগ নেই বলেই সচেতন এলাকাবাসী রাস্তার নিম্নমানের কাজের ছবি ও তথ্য সরাসরি জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত সরকারি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিয়েছেন, যাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরজমিনে আসার আগেই প্রাথমিক প্রমাণ দেখতে পান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই রাস্তাটির মূল কাজের বরাদ্দ পেয়েছেন লোকমান কন্ট্রাক্টর (ঠিকাদার)। তবে মাঠপর্যায়ে পুরো কাজটি পরিচালনা করছেন তাঁর ভাগিনা দানা মিয়া।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, কাজ চলাকালীন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি ও তদারকি মাঠে দেখা যাচ্ছে না। তদারকির এই চরম অভাবকে কাজে লাগিয়েই ঠিকাদারি পক্ষ দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

এলাকাবাসী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁরা টেকসই উন্নয়ন চান, কিন্তু নামমাত্র ও নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের অর্থের অপচয় মেনে নেবেন না। এই অবস্থায় সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট ৪ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো— অনতিবিলম্বে প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে কাজটির সরেজমিনে তদন্ত, অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া, ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রমাণসহ জেলা প্রশাসকের দপ্তরে বিষয়টি পৌঁছানোর পর, জনস্বার্থে ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন— এমনটাই প্রত্যাশা ইব্রাহিমপুর দক্ষিণ পাড়ার ভুক্তভোগী মানুষের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category