ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যখন রাজপথ জ্বলছিল। যখন গুলি-টিয়ারসেল লাঠিচার্জে কাঁপছিল রাজধানী। ঠিক তখনই মধ্য জুলাই ঢাকার বিতর্কিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস পার্টি করছিলেন পাঁচ তারকা এক হোটেলে।
ছেলের গ্রাজুয়েশন সেলিব্রেশনে সেরাটনের ১২ তলার বল রুম আলোকিত ছিল। আর মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে শিক্ষার্থীরা হারাচ্ছিলেন চোখ-হাত ও নিজের ভবিষ্যৎ।
ছাত্র-জনতার আন্দোলন তুঙ্গে থাকার সময় সুযোগ বুঝে পরিস্থিতি অনুধাবন করে শেখ হাসিনা পালানোর ঠিক দুদিন আগেই ৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর পালিয়ে যান শেখ তাপস।
চেষ্টা করেছিলেন যুক্তরাজ্যে প্রবেশের। বিমানবন্দর থেকে ফেরত, তবুও পরিবারকে পাঠিয়ে দিয়ে সিঙ্গাপুরের ফ্লাইট ধরেন তিনি। সিঙ্গাপুর ছিলেন মাসের পর মাস; ভিসা ছাড়াই। অবশেষে পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাজ্যে।
বর্তমানে সপরিবারে লন্ডনে বিলাসী জীবনযাপন করছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। তার বড় ছেলে লন্ডনে আর ছোট ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করছেন।
শেখ তাপসের বিরুদ্ধে কি নেই? হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন, দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়ন, এমনকি পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ। বিডিআর হত্যাযজ্ঞে নিহত মেজর জেনারেল শাকিলের ছেলে রাকিন আহমেদ দাবি করেন, ১৫ বছর আগে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শেখ তাপস জড়িত ছিলেন।
২০২৩ সালে ডেইলি স্টারের একটি রম্য রচনায় মানহানি হয়েছে দাবি করে সম্পাদক মাহফুজ আনামসহ তিনজনকে ১০০ কোটি টাকার লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে হয়েছিলেন দেশের প্রথম ১০০ কোটির মেয়র।
২০২৩ সালের শুরুতে সাতমসজিদ সড়কে গভীর রাতে গাছ কাটায় সমালোচিত হয়েছিলেন সাবেক মেয়র শেখ তাপস। পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজোয়ানা হাসান গাছকাটা বন্ধে দেখা করতে গেলে তাকে নগর ভবনে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। এরপর যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের পর অবশেষে গাছকাটা বন্ধ করা হয়।
২০২১ সালে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন জানান, শেখ তাপস দক্ষিণ সিটির শত শত কোটি টাকা নিজের মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তর করে লাভ করেছেন কোটি কোটি টাকা।
আর এসব কথার জবাবে তাপস বলেছিলেন- মন চায় আবার ইস্তফা দিয়ে ফিরে আসি। কোথায় মুগুর মাড়তে হয় সেটাই জানি।